1. bappy.ador@yahoo.com : admin :
  2. hostctg@gmail.com : Sports Editor : Sports Editor
  3. Onlynayeemkhanbd@gmail.com : Admin admin : Admin admin
  4. afnafrahel@gmail.com : afnafrahel@gmail.com Sports : afnafrahel@gmail.com Sports
শুক্রবার, ০৫ মার্চ ২০২১, ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন

বন্ধুই যখন ডেকে এনেছেন সর্বনাশ; আছেন টেন্ডুলকার-আশরাফুল!

  • সময় শনিবার, ২ জানুয়ারী, ২০২১
  • ১১২ পঠিত

দুই হৃদয়ের মাঝে খুব শক্তিশালী এক বন্ধন যা যেকোনো সাংগঠনিক শক্তি, এমনকি কখনোসখনো র'ক্তের সম্পর্ককেও হার মানায়। সহজ কথায় বন্ধুত্বের সংজ্ঞাটা এমনি। অসাধারণ এই মানবীয় সম্পর্ক নিয়ে এপর্যন্ত জন্ম

নিয়েছে লাখো-কোটি কিংবদন্তি ঘটনা। রচিত হয়েছে অগণিত গল্প-উপন্যাস-কবিতা। এই যেমন, বিখ্যাত জার্মান দার্শনিক ফ্রে'ডরিক নিৎসের ভাষায়, ‘বিশ্বস্ত বন্ধুত্ব হচ্ছে প্রাণরক্ষাকারী ছায়ার মতো। যে তা খুঁজে পেল, সে একটি গু'প্তধন পেল।’ কিন্তু নিষ্ঠুর প্রতিযোগীতাপূর্ণ পৃথিবীতে সত্যিকারের বন্ধুদের খুঁজে পাওয়াটা কি

এতোটাই সহজ? সুসময়ের দিনগু'লোতে দুধের মাছিদের কোনো অভাব থাকে না, অথচ জীবনের করুণ সময়ে পাশে দাঁড়ানোর মতো বন্ধু খুব সৌভাগ্যবানরাই পেয়ে থাকেন। অ'পরদিকে বন্ধুত্বের মুখোশের আড়ালে থাকা স্বার্থপর চরিত্ররা অনেকসময় আমা'দের এমনসব ক্ষ'তি

করে বসে, তা রীতিমতো অ'পূরণীয়। তারই উদাহরণ ম্বরূপ আজ পাঠকদের জন্য রইলো ক্রীড়া'ঙ্গনের সেরা তিনটি স্বার্থপর বন্ধুত্বের গল্প।

শচিন টেন্ডুলকার ও বিনোদ কুম্বলে

একই স্কুলে পড়াশোনা করার সুবাদে শৈশবের সুখময় দিনগু'লো থেকেই শচিনের স'ঙ্গে গভীর বন্ধুত্ব ছিল সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার বিনোদ কাম্বলির। সেসময় নিজেদের দলের জন্যও তারা দুইজন ছিলেন অত্যন্ত গু'রুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। এমনকি নিজেদের স্কুল সারদাশ্রম

বিদ্যামন্দিরের হয়ে একম্যাচে ৬৬৪ রানের অনবদ্য জুটি গড়ে প্রথমবারের মতো স্পটলাইটের নিচেও এসেছিলেন একইস'ঙ্গে। এরপর ভারতের জাতীয় দলে দুই বন্ধুর অ'ভিষেকও হয়েছিল প্রায় একই সময়ে। তবে যতসব ঝামেলার সূত্রপাত এখান থেকেই হয়েছিল। কেননা

ভারতের জার্সি গায়ে চড়ানোর পর শচিন যেভাবে নিজের প্রতিভার সাক্ষর রেখে ক্রমাগত ক্রিকে'টের অন্যতম সেরা বরপুত্রে পরিণত হচ্ছিলেন, তার বন্ধু বিনোদ সেভাবে নিজেকে মেলে ধ’রার সুযোগ পাননি। ফলে শচিনের ২৪ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বিপরীতে বিনোদের গোটা ক্যারিয়ারই শেষ হয়ে গিয়েছিল মাত্র ২৮ বছর বয়সে।

অবশ্য নিজের স্বপ্নের এই অকাল মৃ'ত্যুর পিছনে শচিনকেই দায়ী বলে মনে করেন বিনোদ। বেশ কয়েকবার গণমাধ্যমকে তিনি বলেছেন যে, শচিনের অবহেলা ও অসহযোগিতার জন্যই তাঁর এই দশা হয়েছিল। সেসময় তিনি আরো জানান যে, শচিন নাকি তখন তার

ছোটবেলার বন্ধুর কোনোরকম খোঁজখবরও রাখতেন না। অন্যদিকে একথাগু'লো যখন আবার শচিনের কানে যায়, তখন পরিস্থিতি আরো খারাপ 'হতে থাকে। ঐসময় মাস্টার ব্লাস্টারের স'ঙ্গে বিনোদের মুখ দেখাদেখি পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে আশার কথা হলো, অনেকদিন পরে হলেও বছর তিনেক আগে তাঁদের মধ্যে আবারো পুরোনো বন্ধন তৈরি হয়েছে এবং এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগু'লোতেও তাদের আগের মতোই বন্ধুত্বসুলভ আচরণ করতে দেখা যায়।

মাউরো ইকার্দি-ম্যাক্সি লোপেজ

বিনোদ-টেন্ডুলকারের মতো ইকার্দি এবং লোপেজের বয়সে এতোটা মিল ছিল না। তবে জাতীয় দলের পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলেও একইদলের হয়ে খেলার সুবাদে ৯ বছরের ছোট মাউরো ইকার্দির স'ঙ্গে বেশ ভালোরকমের সম্পর্ক ছিল ম্যাক্সি লোপেজের। আর ছোট ভাইয়ের সমান এই ইকার্দির কাছেই যে একদিন নিজের স্ত্রী ওয়ান্ডা নারাকে হারিয়ে বসতে হবে তা হয়তো কখনো কল্পনাও করতে পারেননি তিনি।

ঘটনার শুরুটা অবশ্য হয়েছিল ২০১২ সাল থেকে। এর প্রায় চারবছর আগে নারার স'ঙ্গে বৈবাহিক বন্ধনে আব'দ্ধ হয়েছিলেন লোপেজ। আর ততদিনে তাদের কোল আলো করে এসে পড়েছে তিনজন ফুটফুটে সন্তানও। কিন্তু ঐমৌসুম চলাকালে ইকার্দির ক্লাব সাম্পদোরিয়ার হয়ে খেলার সুযোগ পাওয়ার কারণে পুরো পরিবারসহ সেই শহরে এসে পড়েন এই আর্জেন্টাইন ফরওয়ার্ড। তারপর একই ক্লাবে খেলার সুবাদে প্রায়ই ম্যাক্সির বাড়িতে আসা-যাওয়া পড়তো ইকার্দির। তবে নারার প্রতি তখনো বিশেষ কোনো আকর্ষণ ছিল না তার। আসলে আলাপচারিতার শুরুটা নাকি করেছিলেন নারা নিজেই।

সেসময় আমেরিকার বাজারে অ্যাপলের নতুন মডেলের আইপ্যাড এসেছিল যা ইতালির বাজারে আসতে আসতে আরোকিছু সময় লেগে যায়। তাই নারা ক্ষুদেবার্তার মাধ্যমে ইকার্দিকে নিজের জন্য আমেরিকা থেকে একটি আইপ্যাড আনিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। আর এভাবেই তাদের কথাবার্তার শুরু। সেখান থেকে তাঁরা যে কিভাবে একে অ'পরের প্রেমে পড়ে যান, তা তারাই ভালো জানেন। এদিকে একটা সময় তাদের নিয়মিত ডেটিং করতেও দেখা যেতে থাকে। ঘটনাক্রমে ম্যাক্সিও ব্যাপারটি জেনে যান। যার ফলে তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে তাদের দুইজনকেই প্রতারক বলে অবিহিত করেন।

আবার এঘটনার বিরূপ প্রভাব পড়তে থাকে তাদের দাম্পত্য জীবনের ওপরও। তাই ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে তারা নিজেদের বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ ছিন'্ন করার সি'দ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং কয়েকদিনের মাঝেই তা কার্যকর হয়ে যায়। এরপর নারা চলে যান বুইনস এইরেসে। আর মাস কয়েকের মধ্যেই তিনি ম্যাক্সির সতীর্থ ইকার্দিকে বিয়েও করে বসেন। তবে এখানেই ঘটনার শেষ নয়। নিজের সাবেক স্ত্রীকে বিয়ে করার কারণে পরের দুইবছর ম্যাচে চলাকালীন সময়ে ইকার্দির স'ঙ্গে নিয় মর'ক্ষার কর মর'্দন পর্যন্ত করতে রাজি হননি লোপেজ। অবশ্য সম্প্রতি নারাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য উল্টো ম্যাক্সিই ইকার্দিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

শাহরিয়ার নাফিস – মো হা'ম্ম'দ আশরাফুল

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম ল'জ্জাজনক অধ্যায় ছিল ২০০৮ সালের আইসিএল কান্ড। সেবার ভারতের অননুমোদিত টুর্নামেন্টটিতে খেলতে গিয়ে আজীবনের জন্য নিষে'ধাজ্ঞায় পড়েছিলেন মোট ১৩জন ক্রিকেটার। যার মূল হোতা হিসেবে বরাবরই উচ্চারিত হয়ে আসছে জাতীয় দলের তৎকালীন অধিনায়ক মো হা'ম্ম'দ আশরাফুলের নাম। অনেকের দাবি মতে, ঐবছর আশরাফুল জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের আইসিএলে খেলতে যাওয়ার প্রস্তাব দিলেও শেষপর্যন্ত নিজে সেখানে যাননি। ফলে বিতর্কিত লিগটিতে খেলতে যাওয়ার দায়ে নিষে'ধাজ্ঞায় পড়া ক্রিকেটাররা নিজেদের ক্যারিয়ার ধ্বং'সের পিছনে বারবারই আশরাফুলকে দায়ী করে আসছেন।

তাদেরই মধ্যে একজন হলেন আশরাফুলের একসময়কার কাছের বন্ধু শাহরিয়ার নাফিস। সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পেজ থেকে প্রকাশ করা এক ভিডিওতে আইসিএল প্রস'ঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লিগে (আইসিএল) যখন আমি যোগ দেই ২০০৮ সালে, এটা তার আগের বছরই ভারতে শুরু হয়েছিল। পত্র-পত্রিকাতে কিছুটা পড়েছিলাম। টিভির পর্দায়ও কিছু খেলা দেখেছিলাম। আ মর'া সম্ভবত পাকিস্তানে এশিয়া কাপ বা দ্বিপাক্ষিক সিরিজের জন্য অনুশীলন করছিলাম। ঐসময় বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়ক মো হা'ম্ম'দ আশরাফুল আমা'র ভালো বন্ধু। ও এসে আমাকে বললো, “দোস্ত, তোর কাছে যদি প্রস্তাব আসে বিদেশে টি-টোয়েন্টি লিগ খেলার ব্যাপারে তুই কি করবি? প্রশ্নটা শুনে আমি একটু অবাকই হয়েছিলাম। কিছুক্ষণ চিন্তা করে আমি বলেছিলাম যে, এরকম যদি কোনো প্রস্তাব আসে তাহলে আমি বিবেচনা করবো না। কারণ আমি এই ব্যাপারে কিছু ভাবছি না। এসব নিয়ে চিন্তাই করতে চাই না। তবে এরপরের দুই-তিন মাসের ঘটনা প্রবাহ ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লিগের ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করতে প্রভাবিত করে।’

পরে অবশ্য ভারতীয় এজেন্ট কৌস্তভ লাহিড়ীর কথায় নি'ষি'দ্ধ লিগটি খেলতে রাজি হয়ে গিয়েছিলেন নাফিস। এদিকে কয়েকদিন আগে আরেক লাইভ অনুষ্ঠানে এসে আশরাফুল নাফিসের বিপক্ষে পাল্টা বক্তব্য ছুঁড়ে দিয়ে জানান, নাফিসরা খুব ভালো করেই জানতেন যে বিসিবির অনুমতি ছাড়া বিদেশি লিগে খেলার ওপর কড়া নিষে'ধাজ্ঞা রয়েছে। এমনকি আশরাফুল যখন নাফিসকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তখনো তিনি নিষে'ধাজ্ঞার ভয়েই তার প্রস্তাবে ‘না’ বলেছিলেন। আবার আশরাফুল সেসময় অন্যদের সাথে আইসিএলে না গিয়ে শাস্তি থেকে বেঁচে গেলেও পরবর্তিতে বিপিএলের ম্যাচ ফিক্সিং কান্ডে জড়িয়ে বছর কয়েকের মাথায় নিজেও ৫ বছরের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত হন।

সূত্র : ইন্টারনেট / স্পোর্টসজোন ২৪

খবরটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্পোর্টস গসিপ.কম
Theme Customized By Sports Gossip
error: Content is protected !!