1. bappy.ador@yahoo.com : admin :
  2. hostctg@gmail.com : Sports Editor : Sports Editor
  3. Onlynayeemkhanbd@gmail.com : Admin admin : Admin admin
  4. afnafrahel@gmail.com : afnafrahel@gmail.com Sports : afnafrahel@gmail.com Sports
বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১, ০২:৫৯ পূর্বাহ্ন

হকির স্ট্রাইকার থেকে ক্রিকেটের মারকুটে ব্যাটসম্যান

  • সময় বৃহস্পতিবার, ১ এপ্রিল, ২০২১
  • ৮১ পঠিত

জীবনের শুরুটা যেমন একেকজনের একেক রকম তেমনি লক্ষ্যও থাকে একেবারে ভিন্ন। ধরুন, কেউবা 'হতে চান আলবার্ট আইনস্টাইন, কেউবা ডন ব্রাডম্যান, কেউবা নামকরা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, কেউবা ম্যারাডোনা, আবার কেউবা শেন ওয়ার্ন। গু'টিকয়েকজনের নাম বললাম, এছাড়াও আরও অনেকেই আছেন জীবন চলার পথে যাদের আ মর'া অনুপ্রেরণার উৎস মনে করি।

তেমনি করেই তিলে তিলে গড়ে তোলা স্বপ্নের ওপর ভিত্তি করে আ মর'া এগিয়ে যাই সামনের দিকে। কেউ সফল হই, কেউবা প্রতিযোগিতার স'ঙ্গে দৌঁড়াতে না পেরে পিছিয়ে পড়ি। আবার কেউ কেউ ভিন্ন পথ বেছে নেই জীবনচলার তাগিদে। আবার হঠাৎ করেই জীবন চলার পথে অনেকের মোড় বেঁকে যায়। তৈরি হয় নতুন ইতিহাসের। ইতিহাসের পাতা ঘাটলে এমন গল্প হাজারটা হয়তো খুঁজে পাওয়া যাব'ে।

কোনো খেলাকে পেশাদারিত্বের স'ঙ্গে নেয়ার আগে আ মর'া অনেকেই একাধিক খেলার স'ঙ্গে জড়িয়ে পড়ি। এমন ঘটনাও নেহাত কম নয়। তবে সময়ের ব্যবধানে পছন্দ ও ভবি'ষ্যতের কথা ভেবে কোনো একটা বেছে নিতে হয়। ছোটবেলায় একই স'ঙ্গে দুটি ভিন্ন খেলায় একই রকম দাপট দেখিয়েছেন এমন খেলোয়াড়ের সংখ্যাও অনেক। দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স কিংবা জন্টি রোডসের কথাই ধরুন না।

হকি খেলার পর ক্রিকে'টের বাইশ গজে দাপট দেখিয়েছেন, এমন একজন ব্যাটসম্যানের নাম বলতে বললে হয়তো সবার আগে ভেসে উঠবে ডি ভিলিয়ার্সের নাম। তাঁর স্বদেশী রোডসের গল্পটাও একেবারে ভিন্ন কিছু নয়। রোডসকে বলা 'হতো ক্রিকেট মাঠের পাখি। শুধু মাত্র ফিল্ডিং দক্ষতার কারণেই ব্যাট হাতে সফল 'হতে না পারার পরও জাতীয় দলে নিয়মিত খেলেছেন তিনি।

ক্রিকে'টে মাঠে সর্বকালের সেরা ফিল্ডার বনে যাওয়া রোডসই কিনা প্রতিনিধিত্ব করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার হকি জাতীয় দলের হয়ে। ১৯৯২ সালের অলিম্পিক দলেও ছিলেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁর দল বাছাইপর্ব পার করতে পারেনি। ১৯৯৬ অলিম্পিকেও তিনি দলে জায়গা পেয়েছিলেন। ডি ভিলিয়ার্স, রোডসের মতো হকির পারদর্শীতা ছিল টিম সেইফার্টেরও।

বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় যেমন ক্রিকেট খেলেছেন নিয়মিত, তেমন দাপট দেখিয়েছেন হকিতেও। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে বছরের একটা নির্দিষ্ট সময়কে বেছে নিয়ে হকি ও ক্রিকেট খেলাকে একস'ঙ্গে চালিয়ে যেতেন। গ্রীষ্ম মৌসুমে ক্রিকেট খেলা সেইফার্ট শীতকালে নেমে পড়তেন হকির স্টিক নিয়ে। হকি দলের স্ট্রাইকার হিসেবে দাপট দেখিয়েছেন তিনি।

এক স'ঙ্গে দুটি খেলাই চালিয়ে যাওয়ার গল্প ‍শুনিয়েছেন এক ভিডিও বার্তায়। এ প্রস'ঙ্গে সেইফার্ট বলেন, ‘আমি একজন হকি ও ক্রিকেট খেলোয়াড় ছিলাম। আমি গ্রীষ্মে ক্রিকেট আর শীতে হকি খেলতাম। আমা'র হকি ক্যারিয়ারের অনেকটা অংশ জুড়ে স্ট্রাইকার হিসেবে খেলেছি। আমি স্ট্রাইকারদের ব্যাপারগু'লো খুবই পছন্দ করতাম, আপনি জানেন যে ড্রাইভ করছেন, ফ্লিক করার চেষ্টা করছেন এবং গোল করছেন।

ডিফেন্ডারকে বিট করে গোল দেয়া দারুণ অনুভূ'তি।’ বয়স যখন মাত্র ৬, তখনই ক্রিকেট বল খেলতে শুরু করেছিলেন সেইফার্ট। তবে প্রথমবার ‍যখন ক্রিকেট বল খেতে নেমেছিলেন সেবার শূন্য রানেই ফিরতে হয়েছিল এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানকে। স্কুল ক্রিকেট শুরুর আগে রান্না ঘরে টেবিল টেনিস বল দিয়ে ক্রিকেট ও হকির শুরুটা হয়েছিল তাঁর।

শূন্য রানে ক্রিকেট বল খেলা শুরু করা সেইফার্ট যখন স্কুল ক্রিকে'টে শুরু করেন তখন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান হিসেবে রীতিমত দাপট দেখিয়েছেন। সাউথওয়েল স্কুলের হয়ে দীর্ঘদিন খেলেছেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। যেখানে দলটির হয়ে ৪৭ গড়ে করেছিলেন ২২৬৮ রান। এ ছাড়া উইকে'টের পেছনে ১০০টি ডিসমিসাল করেছিলেন।

এমন পারফরম্যান্সের সুবাদে সেন্ট পিটারসের সহ অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়েছিলেন তিনি। সেবার জাতীয় জুনিয়র স্কুল টুর্নামেন্টে ৮৭ বলে অ'পরাজিত ১৪২ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছিলেন। যা ২০১০ সাল পর্যন্ত একজন সহ অধিনায়ক হিসেবে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। সেইফার্ট যখন প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পান তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৯ বছর।

ওয়াইকাটো একাদশের হয়ে ফাইনালে সেঞ্চুরি করার স'ঙ্গে দলকে শিরোপা জিতিয়েছিলেন তিনি। তবে এমন সাফল্যের জন্য তাঁর বাবা-মা'র কৃতিত্বটা অনেক বেশি। সেই গল্প বলতে গিয়ে সেইফার্ট বলেন, ‘বাবা-মা আমাকে এবং আমা'র বোনকে স্কটল্যান্ডে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং তারা সারা বিশ্বজুড়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন। তারা কেবল নিউজিল্যান্ড নয় বিশ্বের অনেকটা অংশ জুড়ে ধারণা দিয়েছেন।

তবে হ্যাঁ, এটি দুর্দান্ত ছিল। আমি মনে করি রান্না ঘরে টেবিল টেনিস বল ও সাক্ষরকরািএকটি ব্যাট দিয়ে হাতে হকির স্টিক এবং ক্রিকেট ব্যাট হাতে তুলে নিয়েছিলাম। আমা'র যতটুকু মনে পড়ে, আমা'র বয়স যখন ৬ তখন আমি প্রথম ক্রিকেট বল খেলেছি এবং আমি গোল্ডেন ডাক মেরে আউট হয়েছি। ক্রিকেট বল খেলার এটাই আমা'র প্রথম স্মৃ'তি।

স্কুল হকি কিংবা বিভিন্ন লিগে স্টিক হাতে বেশ সুনাম কুড়িয়েছিলেন সেইফার্ট। ফ্রেশার-টেক সিনিয়র হকি দলের হয়ে মিডল্যান্ডস আন্তঃ প্রিমিয়ার লিগের ফাইনালে হ্যাটট্রিক করে দলকে শিরোপা জিতেয়েছিলেন তিনি। এ ছাড়া সেই মৌসুমে ১৪ ম্যাচ খেলে ২৫বার স্কোর'শিটে নাম লিখিয়েছিলেন তিনি। এ ছাড়া ওয়াইকাটো ও সেন্ট পিটারস প্রথম একাদশের হয়ে খেলার অ'ভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর।

যেখানে ওয়াইকাটোর হয়ে ৭৫ ম্যাচে ৯৯ আর সেন্ট পিটারসের হয়ে ৪৪ ম্যাচে ৫৩ বার স্কোর শিটে নাম লিখিয়েছিলেন তিনি। এমন পারফরম্যান্সের সুবাদে খুব দ্রুতই জায়গা করে নেন নিউজিল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৮ হকি দলে। সেইফার্টের বয়স যখন ১৮ কিংবা ১৯, তখন নিউজিল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৮ হকি দলে সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। সেই স'ঙ্গে ক্রিকে'টে নিউজিল্যান্ডের যুব দলে সুযোগ হয় তাঁর।

সেবার যুব বিশ্বকাপের পরই শীতের মৌসুম শুরু। যে সময়টায় তিনি হকি খেলায় ব্যস্ত থাকেন সেই সময়টায় ক্লাব ক্রিকেট খেলতে ইংল্যান্ড থেকে প্রস্তাব আসে ২৬ বছর বয়সি এই ক্রিকেটারের। ইংলিশদের ডেরায় খেলতে যাওয়ার কারণে সেই মৌসুমে অনূর্ধ্ব-১৮ দলের হয়ে হকির স্টিক হাতে মাঠে নামা হয়নি তাঁর। আর তাতেই শুরু হয় হকি ছেড়ে ক্রিকেটার হওয়ার পথচলা।

দুইটা খেলাতেই ভালো করা পরও বাধ্য হয়েছে যেকোনো একটা বেছে নিতে হয়েছিল তাঁকে। সেখানে বু'দ্ধির স'ঙ্গে ক্রিকেটকে বেছে নেন তিনি। তাঁর ধারণা ক্রিকেট বাদ দিয়ে হকি খেললে তিনি এতটা স্বাচ্ছন্দ্যের জীবন পেতেন না। হকি খেলোয়াড় থেকে ক্রিকেটার হওয়ার গল্প শোনাতে গিয়ে সেইফার্ট বলেন, ‘আমা'র বয়স তখন ১৮ কিংবা ১৯।

নিউজিল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে অ'ভিষেক হয় এবং সেখানে খেলার জন্য এটি দারুণ একটি সুযোগ। বিশ্বকাপের পরই সেবার শীত শুরু হয়। ক্লাব ক্রিকে'টে ইয়র্কশায়ার হাডারফিল্ড লিগ খেলার জন্য আমি ইংল্যান্ডে যাওয়ার সুযোগ পাই। সেবারই প্রথমবারের মতো পুরো বছর জুড়ে ক্রিকেট খেলার সুযোগ পেয়েছিলাম। আমি সেই শীতে হকি খেলতে পারিনি কারণ আমি তখন ইংল্যান্ড সফরে ছিলাম।

ক্রিকে'টের দিকে ধাবিত হওয়ার শুরুটা সেখানেই। এখনও আমি হকি খেলা এবং সেই প্রতিযোগীদের মিস করি। আমি মিডল্যান্ডস ও নিউজিল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৮ দলের হয়ে খেলার সুযোগ মিস করি। তুমুল প্রতিযোগিতার হকিকে মিস করি কিন্তু অন্য দিক দেখলে মিস করি না…..। আমি জানতাম হকি আমাকে দারুণ লাইফ স্টাইল দিতো না। সম্ভবত ক্রিকে'টের মতো জীবনে এতো সুযোগও দিতো না।

এটা (হকি খেলা চালিয়ে যাওয়া) বু'দ্ধিমানের কাজ 'হতো না। নর্দান ডিস্ট্রিক্টের হয়ে খেলার সুযোগ পাওয়ার পর জাতীয় দলে ‍সুযোগ পেতেও খুব বেশি সময় লাগেনি। দলটির হয়ে ওয়েলিংটনের বিপক্ষে ৪০ বলে সেঞ্চুরিও আছে তাঁর। সাম্প্রতিক সময়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকে'টে মা'রকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবে বেশ পরিচিতি পেয়েছেন তিনি।

তবে আলাদাভাবে চেনাচ্ছে ব্যাট হাতে তাঁর বিচিত্র শট। সুইপ, রিভার্স সুইপ, সুইচ-হিট, কাট, ড্রাইভ, স্লগ সুইপ এবং প্যাডেলস, সবটাই দখলে রয়েছে তাঁর। ছোট বেলা থেকে হকি খেলার কারণেই শটের এমন বৈচিত্র এসেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। সেটি আরও বিস্তর ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রস টেলর ও বিজে ওয়াটলিংয়ের উদাহরণ টেনেছেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি কিন্ডা আপনাকে স্কয়ার উইকে'টে ‍সুইচ হিট, প্যাডেলস খেলার সুযোগ করে দেয়। কারণ এগু'লো আক্ষরিক অর্থে হকির শট। আপনি যদি দেখেন অনেক খেলোয়াড় আছে। রস টেলর, বিজে ওয়াটলিংরাও হকি খেলোয়াড় ছিল। তারা স্কয়ার উইকে'টে দারুণ করে কারণ এটি (হকি খেলা) খুবই সহায়তা করে। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর বেশ কিছু ঝড়ো ইনিংস দেখে অনেকেই ব্রেন্ডন ম্যাককালামের স'ঙ্গে তুলনা করছেন।

তিনি অবশ্য বেশ কিছুদিন আগে জানিয়েছিলেন সেই ম্যাককালামই কিনা তাঁর শৈশবের নায়ক। এ প্রস'ঙ্গে সেইফার্ট বলেছিলেন, ‘আমি একজন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। স্বাভাবিকভাবেই আমা'র সবচেয়ে পছন্দের ক্রিকেটারের নাম ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। ছোটবেলা থেকেই ওর খেলা দেখেছি। নিউজিল্যান্ড ক্রিকে'টের জন্য ও অনেক কিছু করেছে। ওর মতো ইনিংস খেলতে চাই আমিও।

খবরটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্পোর্টস গসিপ.কম
Theme Customized By Sports Gossip
error: Content is protected !!