1. bappy.ador@yahoo.com : admin :
  2. hostctg@gmail.com : Sports Editor : Sports Editor
  3. Onlynayeemkhanbd@gmail.com : Admin admin : Admin admin
মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১১:৫০ অপরাহ্ন

সেই টিস্যু পেপার থেকে ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা মেসির নাম

  • সময় শনিবার, ২৫ জুন, ২০২২
  • ১০৬ পঠিত

ইতিহাস রচনার সূচনাটা হয়েছিল টিস্যু পেপারে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির মাধ্যমে। কে জানতো ওই টিস্যু পেপারের মাধ্যমে হওয়া এক চুক্তি একদিন ফুটবল ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়ে থাকবে। বলছি তখনকার সেই ছোট্ট ছেলে লিওনেল আন্দ্রেস মেসির কথা। যার খেলা দেখে মুগ্ধ হয়ে তৎকালীন বার্সার ক্রীড়া পরিচালক কালবিলম্ব না করে সেরে ফেলেছিলেন চুক্তি। তারপর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি ফুটবল জাদুকরকে। ক্লাব বার্সেলোনাকে জিতিয়ে গেছেন একের পর এক শিরোপা।

দিনটি ছিল ২৪ জুন ১৯৮৭, বুধবার আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরের আকাশে একটা তারার আবির্ভাব ঘটে। জর্জ মেসি ও মা'রিয়া কুচ্চিত্তিনির ঘর আলো করে জন্মগ্রহণ করেন লিওনেল আন্দ্রেস মেসি। কে জানত এ ছোট্ট লিওনেলই একদিন ফুটবল দুনিয়া জয় করবে। লিওর ফুটবল ক্যারিয়ারটা শুরু হয় মাত্র চার বছর বয়সে ক্লাব গ্রান্দোলির হয়ে। এরপর ১৯৯৫ সালে নিওয়েলস ওল্ড বয়েজ ক্লাবে যোগ দেন মেসি। সেখানে চার বছরের ক্যারিয়ারে মাত্র একটি ম্যাচে হারের স্বাদ পান। এ অনন্য কৃতিত্বের জন্য সেখানে তিনি ‘দ্য মেশিন অফ ৮৭’ নামে পরিচয় লাভ করেন। ১১ বছর বয়সে গ্রোথ হরমোন সমস্যা ধ’রা পড়ায় অনিশ্চয়তা ভর করে লিওর ভবি'ষ্যতের ওপর। ঠিক তখনই তার খেলা দেখে মুগ্ধ হয়ে আশার আলো রূপে আবির্ভূ'ত হয় ক্লাব বার্সেলোনা।

বার্সেলোনার মূল দলের হয়ে মেসির অ'ভিষেক হয়েছিল ২০০৩ সালের ১৬ নভেম্বর এফসি পোর্তোর বিপক্ষে। এরপর লা লিগায় তার অ'ভিষেক ঘটে ২০০৪ সালের ১৬ অক্টোবর এস্পানিওলের বিপক্ষে। এরপর লিওকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক অর্জন করেছেন রেকর্ড আর শিরোপা। এল ক্লাসিকোতে তার করা সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডও (২৬টি) তার নামের পাশেই জ্বল জ্বল করছে। ক্লাব বার্সেলোনার হয়ে তার রয়েছে সর্বোচ্চ হ্যাটট্রিক ৪৮টি।

সালটা ২০০৫, ফিফা যুব চ্যাম্পিয়নশিপ টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন দল আর্জেন্টিনা। সেই টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন করার নেপথ্য কারিগর সেদিনের সেই ৫.৭ ফুট উচ্চতার লম্বা চুলের এক বা পায়ের ফুটবল জাদুকর। সেই লম্বা চুলের ছেলেটি যুব চ্যাম্পিয়নশিপে করেছিলেন ৬ গোল স'ঙ্গে জিতে নিয়েছিলেন টুর্নামেন্টসেরার গোল্ডেন বল ও গোল্ডেন বুট পুরস্কার।

দিনটি ছিল ১৭ আগস্ট ২০০৫, ১৮ বছরের এক যুবক ৬৩ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় হয়ে মাঠে নামেন আর্জেন্টিনার হয়ে, কিন্তু ভাগ্যের কী নি'র্মম পরিহাস আর্জেন্টিনার হয়ে অ'ভিষেক ম্যাচেই লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। কে জানতো তখন অ'ভিষেক ম্যাচে লাল কার্ড দেখা এ ফুটবলারই একদিন ফুটবল বিশ্বের নয়নমণি রূপে আবির্ভূ'ত হবে। এ লিওনেল আন্দ্রেস মেসিকে ঘিরেই আর্জেন্টিনা তাদের আন্তর্জাতিক শিরোপা অর্জনে ব্যর্থতার গ্লানি ঘোচানোর পরিকল্পনা করবে।

লিওর বিশ্বকাপ ফুটবলে যাত্রা ২০০৬ সালে শুরু হলেও বিশ্বকাপ এখনো অধ’রাই রয়ে গেছে ফুটবল জাদুকরের কাছে। ২০১৪ সালে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে ফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে গেলেও ফাইনাল ম্যাচের অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের খেলায় মা'রিও গোটজের গোলে সেবারও স্বপ্নভ'ঙ্গ হয় ফুটবল যুবরাজের।

স্বপ্নের বিশ্বকাপ আজও অধ’রা লিওর জন্য। এ ছাড়া ফুটবল ইতিহাসের এমন কোনো পুরস্কার নেই যা ফুটবল জাদুকরের নেই। বার্সেলোনার হয়ে মেসির অর্জনে রয়েছে ১০টি লা লিগ শিরোপা, ৬টি কো'পা দেল রে, স্প্যানিশ সুপার কাপ ৮টি, ৪টি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা, উয়েফা সুপার কাপ রয়েছে ৩টি, ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ ৩টি। আর্জেন্টিনার হয়ে অনূর্ধ্ব-২৩ অলিম্পিকে স্বর্ণপদক (২০০৮)। প্যারিস সেন্ট জার্মেইর হয়ে প্রথম মৌসুমে লিগ শিরোপা।

২০১৪ সালে বিশ্বকাপের সেরা ফুটবলার হিসেবে গোল্ডেন বল পুরস্কার পান লিও। লিওর ঝুলিতে রয়েছে সর্বোচ্চ ৭টি ব্যালন ডি’অর। দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক শিরোপা অর্জনের দ্বারপ্রান্তে গিয়েও বার বার ভাগ্য দেবতা বিমুখ হয়েছেন ফুটবল জাদুকরের ওপর। ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনাল, ২০০৭, ২০১৫, ২০১৬ কো'পা আমেরিকা ফাইনাল হারের কষ্টদায়ক মুহূর্তের পর ২০২১ সালে ভাগ্যদেবতা সুপ্রসন্ন হয়ে ধ’রা দেন ফুটবল জাদুকরের ভুবনে। ২০২১ সালে কো'পা আমেরিকা ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে হারিয়ে লিওনেল মেসি অর্জন করেন তার কাঙ্ক্ষিত সেই আন্তর্জাতিক শিরোপা।

১৯৮৬ সালের পর প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপা জয়। হাসি ফো’টালেন পুরো আর্জেন্টিনাবাসীর মুখে, হাসি ফো’টালেন সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অগনিত মেসি স মর'্থকের মুখে, হাসি ফো’টালেন আর্জেন্টাইনদের মুখে। অথচ এর আগে ব্যর্থ হলেই জুটেছে সমালোচনা। কেউ দেখেনি তার পাশে কারা' খেলছে, কাদের নিয়ে লড়াই করেছেন লিও সেটা কেউ দেখেনি। শুধু মনে রেখেছে মেসি ব্যর্থ হয়েছেন দলকে জেতাতে। মেসি ইনজুরি নিয়ে খেলেছেন তারপরেও প্রতিপক্ষের সমালোচনা জুটেছে।

অতঃপর নিন্দুকদের মুখে চপেটাঘা'ত করে দলকে কো'পা জেতাতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ায় মেসি জানতেন এর চেয়েও বাজে পরিস্থিতিতে পড়তে হবে তাকে। তিনি নিজেকে সেভাবেই গড়েছেন। প্রতিপক্ষের সমালোচনাকে বানিয়েছেন নিজের শক্তি। ছোটবেলায় দুর্দান্ত পারফর্ম করে ঘরে ফিরেও যখন দেখতেন মা-বাবা মন মর'া হয়ে বসে আছে তখনই বুঝে গিয়েছিলেন তাদের মুখে হাসি ফো’টাতে হলে তাকে সেরাদের সেরা 'হতে হবে। সব বাধাকে জয় করে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে হবে। নিন্দুকেরা তার সমালোচনা করলেও সেটাতে কান দেন না বরং নিজের শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা নিজেই দিয়ে নিজেকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন, শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের চ্যালেঞ্জ।

প্রমাণ করেছেন নিজের শ্রেষ্ঠত্ব। হাসি ফুটিয়েছেন পরিবারের মুখে। পেয়েছেন বিশ্বজুড়ে অগণিত ভক্ত স মর'্থকদের ভালোবাসা। নির্ভরতা দিয়েছেন আর্জেন্টিনাকে। একসময় দলগতভাবে ভালো পারফরম্যান্স করাটাই ছিল যাদের কাছে বিরাট অর্জন তারা এবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়েই খেলা দেখবে। কারণ তাদের দলে আছে একজন মেসি। যার মুখের দিকে তাকালে মনে হয় সবই সম্ভব। ৯০ মিনিটের খেলায় অসম্ভবের কিছু নেই। আপনি ফেভারিট নাকি ‘আন্ডারডগ’ সেটা বিবেচনা করা হবে না বরং ম্যাচটাইমে প্রতিপক্ষের স'ঙ্গে আপনার পারফরম্যান্স নির্ধারণ করে দেবে আপনার ভাগ্য।

সেক্ষেত্রে মেসি ঝলক চমক বদলে দিতে পারে ম্যাচের ভাগ্য, এনে দিতে পারে অবিশ্বা'স্য জয়। কো'পার ফাইনাল জয়ের পর লিওর মুখের চওড়া হাসিটা বিশ্বকাপে আরও একবার দেখার লক্ষ্যেই গ্যালারি কিংবা টিভিসেটের সামনে বসবে অগণিত দর্শক। অ'পেক্ষার পালা শেষ হোক এবার।

শুভ জন্ম'দিন ফুটবল জাদুকর।

খবরটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্পোর্টস গসিপ.কম
Theme Customized By Sports Gossip
error: Content is protected !!