1. bappy.ador@yahoo.com : admin :
  2. hostctg@gmail.com : Sports Editor : Sports Editor
  3. Onlynayeemkhanbd@gmail.com : Admin admin : Admin admin
  4. afnafrahel@gmail.com : afnafrahel@gmail.com Sports : afnafrahel@gmail.com Sports
বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১, ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন

হাজারো কটূকথা সয়ে এখন বাংলাদেশের গর্ব জাহানারা

  • সময় সোমবার, ৮ মার্চ, ২০২১
  • ৮৪ পঠিত

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যেকোনো নারীর জন্য খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নেয়া অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জে জয়ী হয়ে দেশবাসীর জন্য গৌরব বয়ে আনা আরও বেশি কঠিন। আর এ কাজটি এখনও পর্যন্ত সফলতার স'ঙ্গেই করে চলেছেন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের পেস বোলিং অলরাউন্ডার জাহানারা আলম।

২০১৮ সালে ক্রিকে'টে প্রথম কোনো শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এশিয়া কাপের ফাইনালে শক্তিশালী ভারতকে ৩ উইকে'টে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। সেই ম্যাচের শেষ বলে ২ রান নিয়ে দলকে শ্বা'সরু'দ্ধকর এক জয় এনে দেন জাহানারা।

এই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে ক্রিকেটকে নিজের সবকিছু বানানোর যাত্রাটা মোটেও সহজ ছিল না জাহানারার। শিশু বয়সে ভলিবল-হ্যান্ডবল দিয়ে নাম লেখান খেলাধুলায়। সেখান থেকে ভাগ্যের লিখন তাকে নিয়ে আসে ক্রিকে'টে। আর পরে এই ক্রিকেট দিয়েই তিনি এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ব নারী ক্রিকে'টের পরিচিত এক মুখ।

ছোটবেলা থেকে খেলাধুলায় নাম লেখানোয় পরিবার ছাড়া আর কারও ন্যুনতম স মর'্থন পাননি জাহানারা। আশপাশের মানুষ পেছনে বলেছে নানান কথা, পরিবারকে শুনিয়েছে অনেক বাজে মন্তব্য। সেসবের স'ঙ্গে রীতিমতো লড়াই করেই এখন সফল নারী ক্রীড়াবিদ জাহানারা।

বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকে'টে তার যাত্রা শুরু হয়েছে ২০১১ সালে। তবে এরও প্রায় তিন বছর আগে থেকেই ছিলেন জাতীয় দলের স'ঙ্গে। একজন পেশাদার ক্রীড়াবিদ হিসেবে দীর্ঘ এই দেড় দশকের যাত্রায় অনেক কিছুরই মোকাবিলা করতে হয়েছে জাহানারাকে।

নারী দিবসে জাগো নিউজের বিশেষ আয়োজনে তিনি কথা বলেছেন সেসব বি'ষয়ে। একইস'ঙ্গে সমাজের সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, দৃষ্টিভ'ঙ্গি বদলে নারীদের প্রাপ্য সম্মান দিতে। এতে করে নারীরাও দেশের উন্নতিতে সমান অবদান রাখতে পারবে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আজ থেকে প্রায় ১৫-১৬ বছর আগে একজন নারী হিসেবে ক্রিকেট তথা খেলাধুলায় আসা কতটা কঠিন ছিল? আশপাশের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?

জাহানারা : তখন তো আসলে ওভাবে তেমন স মর'্থনই পাইনি। যদি বলেন স মর'্থনের কথা, পরিবারের কাছ থেকে স মর'্থনটা ছিল। এর বাইরে আশপাশের কোনো স মর'্থনই আমি পাইনি। খুলনার টুটপাড়ায় আমি থাকতাম। ওখানের আশেপাশের মানুষরা আমা'র বাবাকে বলতেন যে, মেয়েকে খেলাধুলায় কেন দিচ্ছো? মেয়ে বড় হচ্ছে!

আমি যখন খেলাধুলায় নাম লেখাই, আমা'র বয়স নয় বছর। তখন আমি হ্যান্ডবল-ভলিবল খেলি। যখন ক্রিকে'টে এলাম, তখন আমা'র বয়স ১৪ বছর। শুরুতে তো তখন অনেক ছোট। আস্তে আস্তে যখন বড় হয়েছি, তখন শুনতে হয়েছে যে মেয়ে বড় হচ্ছে, মেয়েকে কেন এভাবে ছেলেদের পোশাক পরিয়ে খেলতে দিচ্ছেন? এগু'লো ঠিক না। আমাকে এটাও শুনতে হয়েছে যে, মেয়ের চেহারা নষ্ট হয়ে যাব'ে, পরে তো বিয়ে দিতে পারবেন না। আবার এমনও কথা হয়েছে যে, ছেলেদের স'ঙ্গে ক্রিকেট খেলছে। এটা তো সমাজবিরোধী।

আমা'র বাবা শুধু একটা কথাই বলেছেন, সে এমন কোনো কাজ করছে না যেটা অসম্মানজনক। সে খেলতে চাচ্ছে, খেলতে দাও। আমা'র কাছে মনে হচ্ছে এটা সম্মানজনক কাজ, তাকে খেলতে দাও। এই যে পরিবারের কাছ থেকে যে স মর'্থনটা পেয়েছি, এখনও পর্যন্ত পাচ্ছি। এখন আমি যে অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছি, এটা আমা'র পরিবারেরই অবদান।

পরবর্তীতে আসলে হয় কী, পৃথিবীতে সবাই সাফল্যের পাগল। লাভ ছাড়া কেউ বিনিয়োগ করতে চায় না। আমি যখন সাফল্য নিয়ে এলাম, ২০০৮ সালে জাতীয় দলে ঢুকলাম এবং হংকংয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে আনঅফিসিয়াল হ্যাটট্রিক করলাম। তখন দেশের শীর্ষস্থানীয় এক দৈনিকে আমা'র বড় একটি ছবি ছাপা হয়। তখন আস্তে আস্তে মানুষ জানতে পারল।

তারপর যখন আমি শ্রীলঙ্কা সফর করলাম, এক কথায় প্রথমবার যখন বিদেশ সফর করলাম। তখন আমা'র এলাকার মানুষের খুশি আর দেখে কে! পুরো বাধভাঙা খুশি যে, তাদের এলাকার একটা খেলতে বিদেশ যাচ্ছে এবং পত্রিকায়, টিভিতে, খবরে তাকে দেখা যায়।

এই যে সাফল্য আনার পর যে বিশাল স মর'্থনটা, এটা বলতে পারেন যে আমা'দের সমাজের একটা বৈশিষ্ট্য। এখান থেকে যদি আ মর'া বের হয়ে আসতে পারি, তাহলে আমা'র মনে হয় যে সমাজব্যবস্থাটা আরও সুন্দরভাবে এগোতে পারবে। আমা'দের দৃষ্টিভ'ঙ্গিও যদি একটু বদলাতে পারি, তাহলে আমা'দের কাজগু'লো আরও সহজ হয়ে যায়। এ জিনিসটা আসলে কাউকে জোর দিয়ে করা যায় না। এটা যার যার অবস্থান থেকে তার ভেতর থেকে আসতে হবে।

আ মর'া যদি অনেক বড় চিন্তা না করে, ছোট ছোট ক্ষেত্র ধরেই চিন্তা করি যে, আমা'র পরিবার থেকেই শুরু হোক বি'ষয়টা। বাইরের কথা চিন্তা না করে যদি আমি চিন্তা করি আমা'র ঘরে একটা বোন আছে, মা আছে বা ভাবী আছে- বা যেই হোক, তাদেরকে যদি ঐভাবে সম্মান করা হয়… এমন না যে শুধুমাত্র খেলাধুলায়, আমি প্রত্যেকটা সেক্টরের কথাই বলছি। বাংলাদেশে এখন বিভিন্ন সেক্টরেই নারীদের অবদান অ'পরিসীম। শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারাবিশ্বেই এটা বিদ্যমান।

কিন্তু আ মর'া এখনও পুরুষশাষিত সমাজে বসবাস করছি। যদিও আমা'দের প্রধানমন্ত্রী একজন নারী, তবু আমা'র কাছে মনে হয় যে আ মর'া পুরুষশাষিত সমাজেই বাস করছি। কিছু ঘটনার প্রেক্ষিতে বলছি, অনেক সময় দেখা যায় যে, অনেক পরিবারে মেয়েরা তাদের প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারছে না। এমন না যে তারা খারাপ কিছু চাইছে, তারা ভালো কাজই করতে চায়। কখনও কখনও তারা পড়তে চায় কিন্তু পড়তে দেয়া হচ্ছে না, খেলাধুলা করতে চায় কিন্তু সেটা করতে দেয়া হচ্ছে না বা চাকরি করতে চাইলে সেখানেও স মর'্থন পাচ্ছে না।

আপনি চিন্তা করুন, একজন শিক্ষিত নারীর বিয়ে হলো এবং তিনি চাকরি করতে পারছে না। যদি তার স্বামীর বাড়িতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদে পড়ে, তাহলে কিন্তু তার সামনে আর কোনো পথ খোলা থাকছে না। আমি এক্ষেত্রে দেখেছি যে, অনেক পরিবার কিন্তু মুখ ফিরিয়ে নেয় যে, আ মর'া কিছু জানি না, শ্বশুড়বাড়ি গিয়েছ তো ওখানেই থাকো।

নারী দিবস দেখে আসলে এসব কথা বলছি। শুধু ইতিবাচক বললে অন্য বি'ষয়গু'লো সামনে আসবে না। তো আমি শুধু এটাই বলবো যে, আ মর'া যদি দৃষ্টিভ'ঙ্গিটা বদলাই, সেখান থেকে নারীদের সম্মান করতে শিখি… আমা'দের মূল বি'ষয় হওয়া উচিত সম্মান দেয়া, এটা সবার আগে আসা উচিত।

আমা'র বিশ্বা'স, যদি আ মর'া একটু সম্মান দেখাই, নারীদের প্রাপ্য সম্মান দেই এবং নিজের দৃষ্টিভ'ঙ্গি বদলাই তাহলে নারীরা যে অবদান রাখছে এবং যে নারীরা ঘরের কোণে পড়ে আছে, তাদের প্রতিভা ধামাচাপা পড়ে আছে, সেগু'লো কিন্তু আরও সুন্দরভাবে সামনে আসবে। আমা'র বিশ্বা'স, বাংলাদেশের উন্নয়নে অবদান রাখবে এই নারীরা, ছেলেদের পাশাপাশি।

ভলিবল-হ্যান্ডবল দিয়ে শুরু করলেও পরে ক্রিকে'টে আসার পেছনের গল্পটা কী?

জাহানারা : অনেকেই জিজ্ঞেস করে যে, আমা'র খেলাধুলায় আসার পেছনে কার অবদান বেশি? একজন নারী হিসেবে আল্লাহ্‌র রহমতে নিজেকে সফল মনে করি। এ কারণে মনে করি যে, আমা'র যে পেশা ক্রিকেট… এর মাধ্যমে যে উপার্জনটা আমি করি, সম্পূর্ণ সৎ উপায়ে কষ্ট দিয়ে আয় করি। পরিশ্রম করে নিজের উপার্জন দিয়ে নিজে চলতে পারি। তাই আমি বলতে পারি যে, আমি পেশাদার ক্রিকেটার। তো এইক্ষেত্রে নিজেকে মোটামুটি সফল বলি আমি। ক্রিকে'টে অনেক সাফল্য হয়তো পেয়েছি, সেগু'লোর কথা বলছি না।

তো এর পেছনে কার অবদান বেশি? কার অনুপ্রেরণায় আসলাম? আমি যখন ক্লাস ফাইভ থেকে সিক্সে উঠব তখন আমা'র বয়স নয় বছর, নয় থেকে দশে পা দিবো। খুলনার পাইওনিয়ার গার্লস হাই স্কুলে পড়তাম। তখনকার সময়ে খেলাধুলার জন্য খুব জনপ্রিয় ছিল। টিফিনের বিরতির সময় দেখলাম বড় আপুরা অনুশীলন করছে। আমা'র খুব ইচ্ছে হলো। আমি চলে গেলাম এবং বললাম, আমাকে একটু খেলতে নেবেন? উনারা সানন্দে নিয়ে নিলেন। সেই প্রথম আমা'র ভলিবলে হাতেখড়ি। আমা'র রিসিভ করা দেখে ক্রীড়া শিক্ষকের পছন্দ হয়ে গেল। উনি আমাকে বললেন, এখন থেকে নিয়মিত অনুশীলনে আসবে।

তারপর থেকে আমাকে আর পায় কে! মানে লেখাপড়ায় ফাঁ'কি দেয়ার চূড়ান্ত করে ফেলি। স্কুলে ক্লাস করতাম শুধু চারটা। টিফিনের বিরতির পর থেকে অনুশীলন শুরু। তখন থেকে এখন পর্যন্ত আমি লেখাপড়াটা কম করেছি। তবে এই ফাঁ'কে আমি সবাইকে বলে রাখতে চাই, অবশ্যই পড়াশোনাকে সমান গু'রুত্ব দিতে হবে। প্যাশন বা শখ যাই হোক না কেন, পড়াশোনাকেও সমান তালে চালিয়ে নিতে হবে।

আমি আসলে খেলাধুলার দিকে বেশিই পাগল ছিলাম। তখন বাসায় শুধু বললাম যে, কালকে থেকে অনুশীলন করব। বাসায় বললো, ওকে ঠিক আছে। কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু এটা নিশ্চিত করতে হবে যে, সন্ধ্যার আজানের আগে বাসায় ঢুকবে। তো এই নিয়মটুকু মানতে হবে। পরে যখন ক্রিকেট অনুশীলন শুরু করি, তখন সময়ের বাধটা আরেকটু বাড়তে থাকে।

আমা'র স্কুলের ঠিক বিপরীতেই থাকতেন প্রয়াত কোচ শ্র'দ্ধেয় শেখ সালাউদ্দিন স্যার। ক্রিকেট বোর্ডের কোচ ছিলেন তিনি। তখন সারা বাংলাদেশে নারী ক্রিকে'টের একটা টুর্নামেন্ট আয়োজনের কথা চলছিল। সেজন্য প্রতি ডিভিশন থেকে একটি করে দল বানানোর কথা হয়। তো সালাউদ্দিন স্যার এজন্য খেলোয়াড় খুঁজছিলেন। আমাকে ট্র্যাকস্যুট, ট্রাউজার পরিহিত অবস্থায় স্কুলের সামনে দেখে জিজ্ঞেস করলেন ক্রিকেট খেলব কি না? আমি একবাক্যে রাজি হয়ে বললাম যে, হ্যাঁ অবশ্যই খেলব। তবে আগে আমা'র ক্রীড়া শিক্ষকের অনুমতি নিতে হবে। এক্ষেত্রে আমি বাসায়ও বলিনি। আগে ক্রীড়া শিক্ষকের অনুমতিটা নেই। আমা'র ক্রীড়া শিক্ষককে এটা বলতেই উনি বেজায় খুশি। আ মর'া একঝাঁক শিক্ষার্থী ক্রিকে'টের ট্রায়ালের জন্য চলে যাই।

ট্রায়ালের দিন হলো মজা। আমি কিছুই পারিনি। বোলিং, ব্যাটিং, ফিল্ডিং কোনোটাই পারিনি। তাই আমাকে ব্যাটিং সাইডে রাখা হলো যে, কিছু পারে না, ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে। এক মাস পর আমি নিজেকে পেস বোলার হিসেবে আবি'ষ্কার করলাম। আমা'র ফিটনেসটা ভালো ছিল। আমা'র একটা অভ্যাস ছিল হ্যান্ডবল-ভলিবলের অনুশীলনে সবসময় আধঘণ্টা বা এক ঘণ্টা আগে চলে যেতাম। গিয়ে একা একা অনুশীলন করতাম। এটা আমা'র একটা অভ্যাস, যা এখনও রয়ে গিয়েছে। তো এজন্য বাড়তি কষ্ট করতাম, ছোটাছুটি দৌড়াদৌড়ি। এ কারণে ফিটনেসটা ভালো ছিল। হয়তো এজন্যই আমা'র পেস বোলিংয়ে আসা। খুলনায় সবার চেয়ে জোরে বোলিং করতাম, ঐ সময় থেকে ভালো সুইংও করতাম।

২০০৭ সালে ঢাকার বেশ কয়েকটি মাঠ মিলিয়ে আমা'দের যে প্রথম ওপেন টুর্নামেন্ট হলো, সেখানে আমি সর্বোচ্চ উইকেট নিয়েছিলাম, ১৩টা। বলতে পারেন যে, সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী হিসেবেই জাতীয় দলের ক্যাম্পে ঢোকা আমা'র। তবে আমি দলে সুযোগ পাইনি। ২০০৭ সালে ক্যাম্প করেছি, দলের স'ঙ্গে ছিলাম। পরে ২০০৮ সালে জাতীয় দলে ঢুকি। এভাবেই আমা'র শুরু। সেই ২০০৮ থেকে সবার দোয়ায় এখনও চলছে।

ক্রিকে'টে প্রায় এক যুগের যাত্রা আপনার। যেখানে ইতিবাচক অনেক স্মৃ'তি আছে। তবে এমন কোনো স্মৃ'তির কথা কী মনে পড়ে যেটার কারণে মনে হয়েছে যে, এখন দেখিয়ে দিতে হবে বা ভালো করতেই হবে?

জাহানারা : এমন তো আসলে অনেক অনেক ঘটনা আছে। কিন্তু এখন সেগু'লো সবাইকে বলার মতো সময় হয়নি আমা'র মতে। আরও কয়েকদিন যাক। তারপর না হয় এগু'লো নিয়ে বলা যাব'ে।

তাহলে স্ মর'ণীয় স্মৃ'তির দিকেই ফেরা যাক। আপনার শেষ শটেই ২০১৮ সালের নারী এশিয়া কাপ জিতেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচের পর ক্রিকেট বিশ্বের কাছ থেকে কেমন অ'ভিনন্দন বা শুভেচ্ছাবার্তা পেয়েছেন?

জাহানারা : অনেক! অনেক বেশি প্রশংসা পেয়েছি। আল্লাহর রহমত, আমি আল্লাহ্‌র প্রতি অসংখ্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। তার দয়া ও রহমতে শুধু বাংলাদেশ না আমা'র অনুসারী সারা বিশ্বেই আছে। প্রায় সব ক্রিকেট খেলুড়ে দেশেই আমা'র অনুসারী আছে। তারা যে শুধু নামেই অনুসারী, এমনটা নয়। নিয়মিত খেলার খোঁজখবরও রাখেন। আমা'র সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক বার্তা আসে। এর বাইরেও যখন বাইরে ট্যুর করি, তখন বিদেশি খেলোয়াড় বা দর্শকদের কাছ থেকেও অনেক প্রশংসা পাই। এতে বুঝতে পারি যে তারা আমা'র খেলা পছন্দ করে। আমা'র জন্য সবসময় শুভকামনা জানায়।

বেশিরভাগ ভক্ত বা অনুসারী ভারতের। পুরো ভারতেই… কলকাতা, মুম্বাই বা হায়দরাবাদ… এটা আমি বেশি অনুভব করতে পেরেছি দুইবার আইপিএল খেলার ফলে। প্রথমবার ভারতে খেলার সময় বুঝতে পেরেছি। দ্বিতীয়বার দুবাইয়ে খেলতে গিয়েও খেলোয়াড়দের মাধ্যমে আমি অনেক শুভকামনা পেয়েছি। পরবর্তীতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, আয়ারল্যান্ডসহ প্রায় সব ক্রিকেটখেলুড়ে দেশ থেকেই শুভকামনা পেয়েছি। আল হা'ম'দুলিল্লাহ্‌। আমি চাই, এই মানুষের ভালোবাসা যেন সারাজীবন থাকে এবং আমি যেন এমন কিছু করে যেতে পারি যেন মানুষ আমাকে মনে রাখে।

একদম শেষের দিকে আ মর'া। একটু ক্রিকে'টের বাইরে যাওয়া যাক। ২০২০ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে ‘বিশ্বকাপের ক্রা'শ’ হয়ে গেলেন আপনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এটি ছড়িয়ে পড়েছিল। খেলার বাইরে যে এই অন্যরকম খ্যাতি, এটা কেমন উপভোগ করেন?

জাহানারা : ভালো জিনিস তো সবসময়ই ভালো লাগে। এগু'লো বলতে পারেন যে, আমা'র একটা অনুপ্রেরণা। ক্রিকেটার হিসেবে যখন কেউ ভালো কিছু বলে, ওটাও আমা'র অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। স্মা'র্ট ক্রিকেটার বা সুন্দরী ক্রিকেটার- যে যেভাবেই আখ্যায়িত করুক ভালো লাগে। এজন্য যে আমি যদি নিজেকে গু'ছিয়ে রেখে চলতে পারি, তাহলে অন্য কারও জন্য আমি একজন রোল মডেল 'হতে পারব।

কেউ যদি আমা'র মতো চিন্তা করে বা আমাকে অনুসরণ করে… আমি মনে করি যে, আমি শৃঙ্খলাব'দ্ধ জীবন কা'টাই, আল হা'ম'দুলিল্লাহ্‌। আমি চেষ্টা করি, যতসম্ভব ইতিবাচক থেকে চলা যায়। অনেকে হয়তো আমাকে রোল মডেল হিসেবে চিন্তা করে। আমা'র মাথায় যখন এটা এসেছে, তখন আমি নিজেকে আরও গু'ছিয়ে চলার চিন্তা করছি। যেন আমা'র নেতিবাচক কিছু তাদের চোখে না পড়ে এবং ইতিবাচকটাই তারা নিতে পারে। এটা হলে ভবি'ষ্যতে তারা ক্রিকে'টের পাশাপাশি ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।

আপনি যে কাজই করেন না কেন, সেখান থেকে ভালো একটা ফিডব্যাক পেতে হলে, আগে আপনাকে ভালো মানুষ 'হতে হবে। তাহলে আপনি আপনার কাজের ক্ষেত্রে শতভাগ এফোর্ট দিতে পারবেন। এজন্য আমা'র মনে হয় যে, কেউ যদি আমাকে অনুসরণ করে, আগে আমা'র ভালো জিনিসটাই যেন তার চোখে পড়ে। প্রশংসা তো সব ভালো জিনিসের জন্যই হয়। তো আমা'র বিশ্বা'স, যারা আমাকে অনুসরণ করে তারা আমা'র থেকে ভালো কিছু নেবেন এবং এই ভালো কিছু দেয়ার মধ্যে সবসময়ই অন্যরকম শান্তি।

জাহানারা : সব দিনই নারীদের। আমা'র কাছে প্রতিদিনই নারী দিবস। শুধু একটা দিন (৮ মা'র্চ) হলো যে একটু আলাদা করে বিশেষভাবে সম্মান দেয়া, অন্যভাবে চিন্তা করা- এটাই হয়তো নারী দিবস। এটা জাস্ট আলাদা একটা সম্মান যে, প্রত্যেকটা দিবস এমনভাবে পালন করা হয়। তবে আমা'র কাছে মনে হয় যে প্রত্যেকটা দিনই আসলে নারীদের। নারীরা যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, সামনেও আরও এগোবে ইনশাআল্লাহ্‌।

আমি বিশ্বা'স করি, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও যদি সমানভাবে এগিয়ে যায় এবং প্রত্যেকটা ভালো কাজে সমান অবদান রাখতে পারে- তাহলে এটা বাংলাদেশের উন্নতিতে আরও সাহায্য করবে এবং দেশকে বহির্বিশ্বে আরও ভালোভাবে তুলে ধরবে।

খবরটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্পোর্টস গসিপ.কম
Theme Customized By Sports Gossip
error: Content is protected !!