1. bappy.ador@yahoo.com : admin :
  2. hostctg@gmail.com : Sports Editor : Sports Editor
  3. Onlynayeemkhanbd@gmail.com : Admin admin : Admin admin
  4. editor@sports-gossip.com : Edotpr Edotpr : Edotpr Edotpr
বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০১:০৩ পূর্বাহ্ন

ভেঙে যাচ্ছে স্বপ্নের দল

  • সময় সোমবার, ২২ নভেম্বর, ২০২১
  • ১০ পঠিত

বাংলাদেশের ক্রিকেট

মাশরাফির অলিখিত বিদায় ঘটে গেছে আরও আগেই। অ'ভিজ্ঞ বাকি চার ক্রিকেটারকেও বাংলাদেশ দলে আর একস'ঙ্গে পাওয়ার সম্ভাবনা কমই।
বাংলাদেশের ক্রিকে'টের ‘পঞ্চপাণ্ডব’

বাংলাদেশের ক্রিকে'টের ‘পঞ্চপাণ্ডব’ফাইল ছবি: প্রথম আলো

সেই সময়টা কি তবে পার হয়ে এল বাংলাদেশের ক্রিকেট? খুব অল্পই বোধ হয় ব্যাপ্তি হলো সময়টার। তবু তো বাংলাদেশের ক্রিকে'টের স্বর্ণসময়! কিন্তু সেটি কি এখন অতীত হওয়ার পথে? স্বপ্নের বাংলাদেশ ক্রিকেট দলটা কি তবে ভেঙে যাচ্ছে!

সদ্য সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং চলমান পাকিস্তান সিরিজ থেকে ভেসে আসা হাহাকার থেকেই শুধু এমন ভাবনার অবতারণা নয়। ভাবনার কু'পিতে তেল পড়েছে আরও আগে। এখন শুধু তাতে আগু'ন জ্বলল। সে আগু'নের আলোয় বাংলাদেশের ক্রিকে'টের ভবি'ষ্যতের পথটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। অনিশ্চিত, বন্ধুর এবং 'হতাশার ডালপালায় ছাওয়া সেই পথ।

২০০০ সালের গোড়ার দিকেও বাংলাদেশের ক্রিকে'টে আজকের র মর'মা ছিল না। ক্রিকে'টে এ দেশের স্বপ্নের সীমা তখনো একটা ভালো দল পর্যন্ত। ভালো দল বলতে প্রতিদিন ম্যাচ জিততে হবে, তা নয়। এমন একটা দল, যারা ভালো ক্রিকেট খেলবে, বড় দলকে মাঝেমধ্যে কাঁপিয়ে দেবে, দেশের ক্রিকেটপাগল জনতাকে জয়ের স্বপ্ন দেখিয়ে কখনো কখনো জিতেও যাব'ে, দলে অন্তত গোটা চার-পাঁচেক খেলোয়াড় থাকবেন, যাঁরা ম্যাচ জেতাতে পারেন—এই তো!

বিশ্ব ক্রিকে'টেও এ দেশের কারও কারও থাকবে তারকাখ্যাতি। বাংলাদেশের তরুণ ক্রিকেটাররা যেমন একসময় ই মর'ান, কপিল, হ্যাডলি 'হতে চাইতেন; এ দেশেও দু-চারজন তেমন ক্রিকেটার থাকবেন; ক্রিকেট দুনিয়া যাঁদের একনামে চিনবে।

২০০৭ সালে সবার অজান্তেই সেই স্বপ্নের ভিত গড়া হয়ে যায়। মাশরাফি বিন মুর্তজার নামটা ২০০১ সাল থেকে ছড়াতে শুরু করলেও ২০০৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত দুই বছরে একে একে বাংলাদেশ দলে নাম লেখান মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল ও মাহমুদউল্লাহ। এরপর তো এই পাঁচে মিলেই হয়ে যান বাংলাদেশের ক্রিকে'টের ‘পঞ্চপাণ্ডব’।

২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে প্রথম একস'ঙ্গে জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামেন বাংলাদেশের ক্রিকে'টের স্বর্ণসময়ের পাঁচ সারথি। সেই থেকে একে একে ১১১টি ম্যাচে তাঁরা মাঠে নামেন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। তিন সংস্করণ মিলিয়ে এই ১১১ ম্যাচের মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে ৫৪টিতে, ৫৩টিতে হেরেছে, ফলাফল হয়নি ৪ ম্যাচে। জয়ের সংখ্যাটা যদি কম মনে হয়, তাহলে আরও একটু পেছন ফিরে তাকাতে পারেন। ওই পাঁচজন একস'ঙ্গে জাতীয় দলে খেলার আগে বাংলাদেশ দল আন্তর্জাতিক ক্রিকে'টে সব মিলিয়ে ২১৮টি ম্যাচ খেলে জয় পেয়েছিল মাত্র ৪০টিতে, হার ১৭১ ম্যাচে।

২০০০ সালের শুরু পর্যন্ত বাংলাদেশের ক্রিকেট যে স্বপ্নটা দেখে এসেছে, সেটাই আসলে পূর্ণতা পায় পঞ্চপাণ্ডবের সময়ে। ২০২০-এর মা'র্চে সিলেটে ওয়ানডে নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অলিখিত বিদায় হয়ে যায় মাশরাফির। পঞ্চপাণ্ডবের ইতিহাসেরও সেখানেই সমাপ্তি। ২০১৯ বিশ্বকাপে লর্ডসে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটাই তাই হয়ে আছে মাশরাফি, মুশফিক, সাকিব, তামিম ও মাহমুদউল্লাহকে একস'ঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ।

২০১৯ বিশ্বকাপের পরও বাংলাদেশ ম্যাচ জিতেছে, ভালো খেলেছে। কিন্তু দল থেকে সেই সুর-তালটা যেন হারিয়ে যেতে থাকে। বিশ্বকাপ শেষে প্রকাশ্যে মাশরাফির নেতৃত্বের সমালোচনা করেন সাকিব। সমালোচনার জবাব সরাসরি না দিলেও পরে মাশরাফিও বুঝিয়ে দেন বি'ষয়টি তাঁর পছন্দ হয়নি। জ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়দের মধ্যে মন-কষাকষি, ক্রিকেট বোর্ডের স'ঙ্গে বিরোধ—কিছুই আর পুরোপুরি গো'পন থাকেনি এরপর। জিম্বাবুয়ে সফরে টেস্ট ক্রিকেট থেকে মাহমুদউল্লাহর আকস্মিক অবসর, টি-টোয়েন্টির প্রতি তামিম ইকবালের অনীহা, এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সমালোচনার জবাবে খেলোয়াড়দের পাল্টা ছোবল মা'রা সেসবেরই ধা'রাবাহিকতা।

পঞ্চপাণ্ডব-অধ্যায় যেমন মাশরাফি-বিয়োগে শেষ হলো, তেমনি এটাও স্বাভাবিক যে বাংলাদেশের ক্রিকে'টে একদিন সাকিব-তামিম-মুশফিক-মাহমুদউল্লাহদের অধ্যায়ও শেষ হবে। হয়তো আরও কিছুদিন তাঁরা খেলবেন, তবে বাংলাদেশ দলে এই চতুষ্টয়কে আর এক স'ঙ্গে পাওয়ার সম্ভাবনা কমই। ওয়ানডেতে আরও কিছুদিন হয়তো তাঁদের একস'ঙ্গে পাওয়া যাব'ে, তবে সেটিও অনেক যদি-কিন্তুর ওপর নির্ভরশীল।

মাহমুদউল্লাহ তো টেস্ট ছেড়েই দিয়েছেন, তামিম-মুশফিক টি-টোয়েন্টি আর কত দিন খেলবেন কে জানে, টেস্ট থেকে মাঝেমধ্যে বিশ্রাম চাইবেন সাকিবও। তা ছাড়া বয়স বাড়ার স'ঙ্গে স'ঙ্গে মানুষ ব্যক্তিত্ব আর স্বার্থের সং'ঘা'তে জড়াবে, ভবি'ষ্যতের চিন্তা করবে—এটাই স্বাভাবিক। এক পরিবারেই তা হয়, আর এটা তো একটা দল! আন্তর্জাতিক ক্রিকে'টে সাকিব, তামিম, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহদের সামনে যেটুকু পথ পড়ে আছে, এই সময়টাতে তাঁরাও নিজেদের ভবি'ষ্যতের চিন্তা করতেই পারেন। একসময় বাংলাদেশের প্রতিটি ম্যাচেই যাঁরা ছিলেন অ'পরিহার্য, এখন বিসিবিও তাই তাঁদের বিকল্প খুঁজতে শুরু করেছে।

কিন্তু বিকল্প কি আছে? সাকিব, তামিম, মুশফিকরা আন্তর্জাতিক ক্রিকে'টে এসেই জানান দিয়েছিলেন তাঁরা লম্বা রেসের ঘোড়া। সেই জেল্লাটাই যে নেই এখনকার ক্রিকেটারদের মধ্যে! একেবারে নতুনদের কথা বাদ দিন, চার-পাঁচ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে ফেলেছেন, এমন ক্রিকেটাররাও এখনো পারেননি জাতীয় দলে জায়গা পাকা করতে।

শচীন টেন্ডুলকার, ভিভিএস লক্ষ্মণ, রাহুল দ্রাবিড়ের বিদায়ে ২০১২ সালের পর এ রকমই সময় এসেছিল ভারতের ক্রিকে'টে। ড্যামিয়েন মা'র্টিন, গ্লেন ম্যাকগ্রা, ম্যাথু হেইডেনের মতো অ'ভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা চলে যাওয়ার পর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়া দলকেও। ভালো বিকল্প খেলোয়াড় হাতে ছিল বলেই ভারত, অস্ট্রেলিয়া পেরেছে সেই ক্রা'ন্তিকাল কাটিয়ে উঠতে। অথচ স্বর্ণসময়ের প্রথম বৃত্তটা প্রায় পূরণ করে ফেলেও বাংলাদেশের ক্রিকেট তাকিয়ে অনিশ্চিত ভবি'ষ্যতের দিকে। স্বপ্নের দল তো ভেঙে যাচ্ছে, আরেকটি স্বপ্নের সারথিরা যে এখনো দৃশ্যপটেই নেই!

sun

খবরটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্পোর্টস গসিপ.কম
Theme Customized By Sports Gossip
error: Content is protected !!