1. bappy.ador@yahoo.com : admin :
  2. hostctg@gmail.com : Sports Editor : Sports Editor
  3. Onlynayeemkhanbd@gmail.com : Admin admin : Admin admin
  4. editor@sports-gossip.com : Edotpr Edotpr : Edotpr Edotpr
শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন

বিশ্বকাপের সপ্তম আসরের আলোচিত ‘৭ ঘটনা’

  • সময় সোমবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২১
  • ২০ পঠিত

বিশ্বকাপের সপ্তম আসরের আলোচিত ‘৭ ঘটনা’

প্রায় এক মাস মর'ুর বুকে ঝড় তুলে সমাপ্তি টেনেছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সপ্তম আসর৷ রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের এই এক মাসে জন্ম নিয়েছে অসংখ্য পাওয়া আর না পাওয়ার গল্প৷ আর সেই গল্পগু'লো থেকে সেরা ও আলোচিত সাতটি গল্প তুলে আনার ক্ষুদ্র চেষ্টা করেছে বিডিক্রিকটাইম।

নিউজিল্যান্ড বনাম অস্ট্রেলিয়া, ফাইনাল
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২১ আসরের শিরোপা জিতল অস্ট্রেলিয়া।

গল্প এক : লিভ দ্য গেম

মাঠের ভেতরে ক্রিকেট খেলাটা যতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঠের বাইরে তা ততো বেশি সম্প্রীতির৷ ২২ গজে যু'দ্ধের দামামা বাজানো ক্রিকেট মাঠের বাইরে স্বপ্ন দেখায়, উৎসাহ যোগায়, শিথিল করে রাজনীতির উত্তাল আ'গ্নেয়গিরি। কারণ দেশের হারে অশ্রু ঝরানো স মর'্থকদের অনুভুতিগু'লো তো একেবারেই অ'ভিন্ন৷ আলাদা করতে পারবে না কেউ-ই৷

ক্রিকে'টের এই সম্প্রীতিকে প্রাধান্য দিয়েও সপ্তম আসরের মোটো ছিল ‘লিভ দ্যা গেম’৷ মাঠের বাইরে সেই স্লোগানের উজ্জ্বল নিদর্শন হয়েই রইলো আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২১। নামিবিয়া ম্যাচ শেষে পাকিস্তান দলের ক্রিকেটাররা ছুটে গিয়েছিলেন নামিবিয়ার ড্রেসিংরুমে। স্কটল্যান্ড ম্যাচের পর একই কাজ করেছেন বিরাট কোহলিরাও৷

এমন ক্রিকে'টেরই তো স্বপ্ন দেখে থাকেন ক্রিকেট স মর'্থকরা৷ যেখানে সম্প্রীতির মশাল হয়ে জ্বলবে ক্রিকেট৷ যেখানে ম্যাচ শেষে প্রিয় ক্রিকেটার বিরাট কোহলিকে বিনা সংকোচে ঘিরে ধরবেন পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা। এই ভালোবাসা গু'লাই তো ফুল ফো’টাবে পাথরে, ঢেউ থামিয়ে দিবে উত্তাল সাগরের৷

গল্প দুই : রাজার মুকুট রাজার সাজ, অন্য কেউ তা পরবে আজ

রাজারও রাজ্য হারাতে হয়, চলার পথে এক সময় সবাইকেই থামতে হয়৷ ক্রিকেটারদেরও অতি প্রিয় ব্যাট-প্যাড তুলে রাখতে হয় শোকেসে। নতুনদের জায়গা করে দিয়ে ছাড়তে হয় নিজের খুব পরিচিত জায়গাটা৷ অশ্রুসিক্ত চোখে বলতে হয়, তোমা'র হলো শুরু আর আমা'র হলো সারা।

এবারের বিশ্বকাপে নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন ডোয়াইন ব্রাভো।
এবারের বিশ্বকাপে নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন ডোয়াইন ব্রাভো।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এবারের আসর দিয়ে বিদায় বলে দিয়েছেন বিশ্ব জুড়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকে'টের অন্যতম ব্র্যান্ড এম্বেসেডর ডোয়াইন ব্রাভো৷ ক্ষুদ্রত্তম সংস্করণের সর্বোচ্চ এই উইকেট শিকারীর বিদায়টা হয়ে রইলো সাদামাটাই। তবে অতীতে ফিরে থাকালে দুই দুইটা বিশ্বকাপ জয় সবসময় আপ্লুতই করবে তাকে৷ সরাসরি অবসর না নিলেও ইউনিভার্স বস ক্রিস গেইলকেও আর ক্রিকেট বিশ্বকাপে না দেখার সম্ভাবনাই বেশি৷ এই দুইয়ের বিদায়ে শেষ হয়ে গেল টি-টোয়েন্টির এক অসাধারণ অধ্যায়।

বিদায় বলেছেন আফগান কিংবদন্তি আসগার আফগানও৷ বিশ্বকাপের মাঝ পথেই বিদায় বলেছেন টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের সবচেয়ে সফল এই অধিনায়ক৷

গল্প তিন : তুমি আসবে বলেই

একদিনের ক্রিকে'টের পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দল অস্ট্রেলিয়া৷ ইতিহাস, ঐতিহ্য আর ক্রিকেট সংস্কৃতির হিসেবে অজিদের আশেপাশেও আসতে পারবে খুব কম দলই৷ অথচ ক্রিকে'টের ক্ষুদ্রতম সংস্করণে আসলেই কেমন জানি খেই হারিয়ে ফেলে তারা৷ সর্বক্ষেত্রে সফল এই দল নিয়মিত ব্যর্থতার গল্পই লিখে গেছে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে৷

অধ’রা শিরোপা জয়ের পর অজি ক্রিকেটারদের বাঁধভা'ঙ্গা উল্লাস।
অধ’রা শিরোপা জয়ের পর অজি ক্রিকেটারদের বাঁধভা'ঙ্গা উল্লাস।
সপ্তম আসরের আগে বিশ্লেষকদের কোন সমীকরণেই ছিল না অজিরা৷ আর দিনশেষে সেই প্রত্যাশার চাপ না থাকা'টাই সা'পেবর হয়ে ধ’রা দিল অজিদের সামনে৷ আগের কোন অধিনায়কই যা করতে পারেননি তাই করে বসলেন অ্যারন ফিঞ্চ।

পরম আরাধ্য সেই শিরোপা অবশেষে সপ্তমবারের চেষ্টায় উঁচিয়ে ধরলো অজিরা। পরিপূর্ণতা পেল সফলতার সেই গল্পটা। যে গল্পের অবিসংবাদিত নায়ক ক্রিকে'টের পাওয়ার হাউজ মাইটি অস্ট্রেলিয়া।

গল্প চার : দান দান তিন দান

ক্রিকেট নামক খেলাটা মূলত ব্যাটার আর বোলারের মধ্যকার রোমাঞ্চকর এক লড়াই৷ সেই লড়াইয়ে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে জিতে যেতে চান ব্যাটার। আর ব্যাটারকে প্যাভিলিয়নে ফেরাতেই বোলারের সব কসরত। সেই লড়াইয়ে কদাচিৎ অসম্ভব এক কীর্তির জন্ম দিয়ে দেন বোলাররা৷ মাঝে মাঝে তারা টানা তিন বলে ফিরিয়ে দেন প্রতিপক্ষের তিন ব্যাটারকে৷ ক্রিকে'টের ভাষায় এই ঘটনা স্বীকৃত হয় হ্যাটট্রিক হিসেবে৷

ক্যামফারের ডাবল হ্যাটট্রিকে আয়ারল্যান্ডের সহজ জয়
এবারের বিশ্বকাপে ডাবল হ্যাটট্রিক করেন কার্টিস ক্যামফার।
আর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সপ্তম আসর মোট তিনটি হ্যাটট্রিকের দেখা পেয়েছে। এবারের আসরের প্রথম বোলার হিসাবে নেদারল্যান্ডসের সাথে ডাবল হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়েন আয়ারল্যান্ডের কার্টিস ক্যামফার। এরপর সুপার টুয়েলভের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে বসেন শ্রীলঙ্কার ওয়ানিন্দু হাসারা'ঙ্গা৷ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার কাগিসো রাবাদাও৷

এক আসরে তিন তিনটা হ্যাটট্রিক! অথচ এর আগের ছয় আসরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিকের সাক্ষী হয়েছিল মাত্র একবার।

গল্প পাঁচ : রুপকথার গল্প

নেই অনেক টাকার ছড়াছড়ি, দলে নেই কোন সুপারস্টারও৷ নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা নিয়েই এবারের আসরে রুপকথার জন্ম দিয়েছে নামিবিয়া ক্রিকেট দল। শুধু প্রথমবারের মত বাছাইপর্বই উতরায়নি তারা, পেয়েছে মূলপর্বে নিজেদের প্রথম জয়ও৷

মাত্র ২১ লক্ষ জনসংখ্যার দেশ নামিবিয়া৷ একটা ক্রিকেট টিম দাঁড় করাতেই করতে হয় যু'দ্ধ৷ বিশ্বকাপের স্কোয়াড বাছাইয়ের জন্য নামিবিয়া কোচের হাতে ছিলেন মাত্র ১৮ জন খেলোয়াড়। আর সেই ১৮ থেকেই শ্রেষ্ঠ রত্ন বাছাই করেছেন তিনি৷ উজ্জীবিত করেছেন। হার না মানা মন্ত্র আ'ত্মস্থ করিয়েছেন৷ আর তাতেই ১৮ বছর পর ক্রিকে'টের বিশ্বমঞ্চে হাজির হওয়া দলটি দেশে ফিরেছে ইতিহাসের জন্ম দিয়ে।

স্কটল্যান্ডকে ৫ উইকে'টে হারাল নামিবিয়া
বিশ্বকাপে স্বপ্নের মত সময় কা'টায় নামিবিয়া।
পরাশক্তিদের চোখে চোখ রেখে নামিবিয়ার লড়াই করার এই গল্পটা ছড়িয়ে যাক প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে৷ সেই গল্পকে অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়ে কে'টে যাক তাদের খেলোয়াড় খরা৷ বিশ্ব ক্রিকে'টের পরাশক্তি হয়ে উঠুক আফ্রিকার ছোট এই দেশটি৷ তবেই না স্বার্থক হবে ক্রিকেট। তবেই না সত্যিকারের ক্রীড়াযজ্ঞে পরিণত হবে ক্রিকে'টের বিশ্বকাপ।

গল্প ছয় : এসেছে নতুন শিশু

রেকর্ডের খেলা ক্রিকেট। রেকর্ড ভাঙা গড়ার খেলা ক্রিকেট। নানা পরিসংখ্যানে তাই এই খেলাটাকে বেঁধে রাখার চেষ্টা করেন খেলাটির বিশ্লেষকরা৷ নিজের প্রিয় ক্রিকেটার নতুন কোনো রেকর্ডের জন্ম দিলে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতে কার্পণ্য করেন না স মর'্থকরাও ৷

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের তেমনই এক অনন্য রেকর্ডের অধিকারী ছিলেন শ্রীলঙ্কান স্পিনার অজান্তা মেন্ডিস৷ শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত ২০১২ সালের আসরে তার ৬ ম্যাচে নেওয়া ১৫ উইকেটই ছিল এতদিন পর্যন্ত কোনো আসরের সর্বোচ্চ৷

সপ্তম আসরে এসে সেই রেকর্ড হারালেন তিনি। তাকে সড়িয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী হয়েছেন তারই স্বদেশী ওয়ানিদু হাসারা'ঙ্গা। ৮ ম্যাচে ১৬ উইকেট নিয়ে এই কীর্তি এখন লঙ্কান এই অলরাউন্ডারের৷

গল্প সাত : খুঁজে পাবে না সে গল্পকার

সাফল্যমণ্ডিত বিশ্বকাপের সপ্তম আসর সাক্ষী হয়েছে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার৷ এতো সব প্রাপ্তির ভীড়ে পরম এক অ'প্রাপ্তি হয়ে আসে আবুধাবির শেখ আবু জায়েদ স্টেডিয়ামের প্রধান পিচ কিউরেটর মোহন সিংহের রহস্যজনক মৃ'ত্যু।

৭ই নভেম্বর (রবিবার) সকালে আফগানিস্তান-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ মাঠে গড়ানোর আগে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটির সাক্ষী হয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এবারের আসর৷ জীবনের হিসাব চুকিয়ে পরপারে পাড়ি জমালেও মোহনের তৈরি করা উইকে'টেই অনুষ্ঠিত হয় সেই গু'রুত্বপূর্ণ ম্যাচ৷ আবুধাবির চিরচেনা কন্ডিশন, নিজের বানানো সেই চিরচেনা উইকে'টেই অনুষ্ঠিত হলো ম্যাচ অথচ ম্যাচ শেষে ভুল আর ঠিকের হিসাবে বসার সুযোগ হলো না মোহন সিংহের৷

নিউজিল্যান্ড-আফগানিস্তান ম্যাচের পিচ কিউরেটরের রহস্যজনক মৃ'ত্যু
পিচ কিউরেটর মোহন সিং। ফাইল ছবি
জীবন আর ক্রিকেট দুইটাই তো এমনই৷

একজনের গড়ে দেওয়া ভিতে আরেকজনের নায়ক হওয়ার ঘটনা ক্রিকে'টে তো ঘটে অহরহই৷ আর সেসব আনরোমান্টিক গল্পের আরেকটা হৃদয় বিদারক সংকলন হয়ে রইলো মোহন সিংহের এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃ'ত্যু।

খবরটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্পোর্টস গসিপ.কম
Theme Customized By Sports Gossip
error: Content is protected !!