1. bappy.ador@yahoo.com : admin :
  2. hostctg@gmail.com : Sports Editor : Sports Editor
  3. Onlynayeemkhanbd@gmail.com : Admin admin : Admin admin
  4. editor@sports-gossip.com : Edotpr Edotpr : Edotpr Edotpr
বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০১:০৩ পূর্বাহ্ন

‘নো টাইম ফর ওয়ার্ল্ডকাপ’

  • সময় মঙ্গলবার, ৯ নভেম্বর, ২০২১
  • ২৫ পঠিত

বিরাট কোহলির মুখে হাসি নেই। ফেবারিট তকমা নিয়ে বিশ্বকাপে এসে স্বপ্নভ'ঙ্গ হয়েছে ভারত অধিনায়কেরছবি: এএফপি

দুবাই মেরিনা থেকে দুই ঘণ্টার একটা ইয়ট ক্রুজ নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন আরব সাগরের দিকে। সেটা বিকেলের দিকে হলেই বেশি ভালো।

সাগর থেকে দুবাই আই, পাম জুমেইরা আর আরব সাগরে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বিখ্যাত আট'লান্টিস হোটেল দেখে ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে যাব'ে। নীল জলে সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যটাকে তখন মনে হবে একান্তই আপনার জন্য প্রকৃতির উপহার। তীরের দিকে যতই এগোবেন, দৃষ্টিসীমায় ফুটে উঠবে সোনালি ফ্রেমে বাঁধানো আলো-ঝলমলে দুবাই শহর।

অথবা চলে যেতে পারেন ডেজার্ট সাফারিতে। এক বেলার এই মর'ুভ্রমণে আপনার সামনে জীবন্ত হয়ে উঠবে আরব্য সংস্কৃতি। আরব দেশের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, খাবার আর আরব্য পোশাকে উটযাত্রা আপনাকে দিতে পারে আরব্য রজনীর রোমাঞ্চকর অ'ভিজ্ঞতা।

হাতে অত সময় না থাকলে দুবাই শহরের মধ্যেও ঘুরেফিরে দেখার জায়গার অভাব নেই। পকে'টে যথেষ্ট দির হা'ম থাকলে দুবাই মল, মেরিনা মল বা অন্য কোনো মলে ঢুঁ মা'রতে পারেন। আবার পকেট একেবারে ফাঁ'কা হলেও সমস্যা নেই। এসব মলে এমনিতেও মানুষ কেনে কম, ঘুরে বেশি।

ভালো কথা, বুর্জমান মলেও কিন্তু যাওয়া যায়! এই মলের অনেকগু'লো মুভি থিয়েটারের একটাতে এখন চলছে ‘নো টাইম টু ডাই’। পপকর্ন খেতে খেতে দেখেই আসুন না জেমস বন্ড শেষ পর্যন্ত মর'ার সময় পেলেন কি না!

ভালো কোনো জায়গায় লাঞ্চ বা ডিনারে যাব'েন? উপমহাদেশীয় খাবার থেকে শুরু করে চায়নিজ, জাপানিজ, লেবানিজ—সবই আছে। শুধু রুচি অনুযায়ী বেছে নিন কোথায় যাব'েন, কী খাবেন। তবে খাবারের জায়গাটাকেও যদি ‘সাইট সিয়িং’-এর আওতায় নিয়ে আসতে চান, তাহলে যেতে পারেন শহরের আল মানখুল রোডের বিখ্যাত ইরানি রেস্টুরেন্ট আল উস্তাদ স্পেশাল কাবাবে।

এই রেস্টুরেন্ট সুস্বাদু খাবারের জন্য যেমন বিখ্যাত, বিখ্যাত এখানে খেতে আসা অতিথিদের জন্যও। সে তালিকায় আছেন কিংবদন্তি বক্সার মো হা'ম্ম'দ আলী থেকে শুরু করে ক্রিস্টিয়ানো রো'নালদো, বলিউড তারকা শাহরুখ খান, সালমান খান, সঞ্জয় দত্তসহ আপনার চেনাজানা আরও অনেকেই।

যখনই যে অতিথি এখানে খাবারের স্বাদ নিতে এসেছেন, তাঁদের স'ঙ্গে ছবি তুলে রেখেছেন রেস্তোরাঁর মালিক দুই ইরানি ভাই তালেব আনসারি ও আব্বাস আনসারি এবং হোটেলের কর্মচারীরা। সেসব ছবি পুরো হোটেলের দেয়ালজুড়ে গিজগিজ করে সাঁটা। কেউ খুঁজে বের করে না দিলে সেখান থেকে কারও ছবি আলাদা করা মুশকিল।

সেদিন এভাবে খুঁজতে খুঁজতেই একপর্যায়ে জন আব্রা হা'ম, সালমান খানদের পাশে আবি'ষ্কার করলাম বাংলাদেশের তামিম ইকবালকে। দুবাইয়ের ভোজনরসিকদের ঠিকানায় তামিম আসবেন না, তা কী করে হয়!

নির্দিষ্ট কোথাও যেতে চান না, মনটা উদাস উদাস লাগছে; তাহলে একটা ট্যাক্সি ডেকে দুবাই শহর দেখতে বেরিয়ে পড়ুন। সেটাও এক অদ্ভুত অ'ভিজ্ঞতা। এত আলো পৃথিবীর আর কোনো শহরে আছে কি না, জানা নেই। বুর্জ খলিফা, বুর্জ আল আরব থেকে শুরু করে শহরময় ছড়িয়ে থাকা আকাশছোঁয়া যত অট্টালিকা—সব কটিতেই আলোর খেলা।

আলোর বন্যায় ভেসে যাওয়া শহরটাতে সেদিন রাতে ঘুরতে ঘুরতে মনে হলো, আচ্ছা, এখানে বিদ্যুৎ বিল কেমন আসে? কৌতূহল মেটালেন স'ঙ্গে থাকা স্থানীয় মুঠোফোন কোম্পানি ডু মোবাইলের প্রকৌশলী প্রবাসী বাংলাদেশি আরিফিন সতেজ, ‘খুবই কম। এখানে তো সব ঘরেই সারা দিন এসি চলে, সব ঘরেই অনেক ইলেকট্রনিক সামগ্রী। তারপরও আমা'র মাসে ১ হাজার ২০০ দির হা'মের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৮ হাজার টাকা) মধ্যে হয়ে যায়।’

প্রাসাদোপম অট্টালিকাগু'লোতে খেলে যাওয়া আলোর নাচনের একটা বড় কারণ ভবনগু'লোর বৈচিত্র্যময় নকশা। ভবনের নকশায় এখানকার প্রকৌশলীদের সৃষ্টিশীলতা কল্পনাকেও হার মানায়। কোনোটা আকাশ ভেদ করতে উদ্যত, কোনোটা হেলে পড়ছে, কোনোটা ডিম্বাকৃতির, কোনোটা ফুলের মতো পাপড়ি ছড়িয়ে আছে, আবার কোনোটাবা দাঁড়িয়ে পানির ওপর। নকশা নিয়ে এ যেন রীতিমতো ছেলেখেলা!

মনে নিশ্চয়ই প্রশ্ন আসছে, এই যে লেখার শুরু থেকে এই পর্যন্ত ক্রমাগত দুবাই ঘোরার পরা মর'্শ দিয়ে যাচ্ছি, গু'গল ম্যাপের মতো এটা-ওটা দেখিয়ে যাচ্ছি, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কাভার করতে এসে এসব কেন?

আসলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপটা এখানে এখন মৃ'তপ্রায়, অনেকটাই আকর্ষণহীন। সেমিফাইনাল, ফাইনালের আগপর্যন্ত তাতে আর রং লাগছে বলে মনে হয় না। দুবাইয়ের এত জায়গায় ঘুরিয়ে আনাটা বিবর্ণ বিশ্বকাপ থেকে একটু চোখ সরিয়ে নেওয়ারই চেষ্টা আসলে।

দুবাইপ্রবাসীদের একটা বড় অংশ ভারত, বাংলাদেশ আর পাকিস্তানের মানুষ। বাংলাদেশ তো আগেই বিশ্বকাপকে ‘গু'ডবাই’ বলে চলে গেছে। বিদায় নিয়েছে ভারতও। তার ওপর আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামের ভারতীয় কিউরেটর মোহন সিংয়ের আকস্মিক মৃ'ত্যু পুরো আয়োজনটাকেই পরিয়ে দিয়েছে শোকের চাদর। এই দুই অঘটন আলোকোজ্জ্বল দুবাইয়েও নিভিয়ে দিয়েছে বিশ্বকাপের আলো।

ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের স'ঙ্গে উপমহাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে পাকিস্তানও অবশ্য আছে। কিন্তু দুবাইয়ে সেটার প্রভাব যে শুধু দেশটির ট্যাক্সিচালকদের উৎফুল্ল চেহারাতেই খুঁজে পাই!

আলোর গতিতে ছুটে চলা শহরটার যেন বিশ্বকাপ নিয়ে আর ভাবতেই চাচ্ছে না। সেটা এখন অতীতের কাছাকাছি। জেমস বন্ডের ভাষায় বললে দুবাইয়ে এই মুহূর্তের বাস্তবতা, ‘নো টাইম ফর ওয়ার্ল্ডকাপ।’

খবরটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্পোর্টস গসিপ.কম
Theme Customized By Sports Gossip
error: Content is protected !!