1. bappy.ador@yahoo.com : admin :
  2. hostctg@gmail.com : Sports Editor : Sports Editor
  3. Onlynayeemkhanbd@gmail.com : Admin admin : Admin admin
  4. afnafrahel@gmail.com : afnafrahel@gmail.com Sports : afnafrahel@gmail.com Sports
শনিবার, ০৬ মার্চ ২০২১, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন

সেদ্ধ ডিম বিক্রি করে জীবিকা-নির্বাহ করে জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার

  • সময় শনিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৭৮ পঠিত

হিসেব কষে নিজের বয়স ৮৫ বছরের কাছাকাছি হবে বলে জানালেন হাতেম আলী। ছিলেন ষাট-সত্তর দশকের পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড়। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে ভারতের বিপক্ষে খেলেছেন পূর্ব পাকিস্তানের হয়ে। স্বাধীনতার পরে ঢাকা মো হা'মেডান, ঢাকা ওয়ান্ডার্স, ভিক্টোরিয়াসহ বিভিন্ন ক্লাবে খেলেছেন।

অদৃষ্টের পরিহাস! শেষ বয়সে বেঁচে থাকার লড়াই করছেন রাজশাহীর বরেন্দ্র যাদুঘর মোড়ে সে'দ্ধ ডিম বিক্রি করে। বিগত ১০ বছর ধরে তিনি এখানে ডিম বিক্রি করেন।সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, রাজশাহী বরেন্দ্র যাদুঘরের পাশে হাতেম আলী ও তার স্ত্রী মমতাজ বেগম অল্পকিছু ডিম নিয়ে সে'দ্ধ করে বিক্রি করছেন। ওই এলাকায় ‘দাদু’ নামে পরিচিত তিনি।

এই ডিমওয়ালা দাদু জানান, দেশজুড়ে তসলিমা নাসরিন বিরোধী আন্দোলনের সময়ে ১৫ মাস জে'লে কাটিয়েছেন। সেই সময়েই খেলাধুলায় উপার্জিত টাকা খুইয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। পরে বেছে নেন গবাদিপশুর মাংস ও চামড়া বিক্রির ব্যবসা। ভালোই চলছিল জীবন।

ছন্দপতন ঘটে ছেলের মৃ'ত্যুতে। এক ছেলেকে গলা কে'টে হ'ত্যা করে দু'র্বৃত্তরা। ছেলে হারানোর শোকে ছাড়েন সেই পেশা। শুরু করেন সে'দ্ধ ডিম বিক্রির ব্যবসা।হাতেম আলী জানান, ছোটবেলায় খেলার মাঠের বল কুড়াতেন। সেখান থেকে থেকেই শিখেছেন ফুটবল মাঠের নৈপুণ্য।

১৯৭১ সালে মুক্তিযু'দ্ধের আগে ভারতের বিপক্ষে তাদের মাটিতে খেলেছেন একবার। জাতীয় দলের হয়ে গোল পোস্টের অতন্দ্র প্রহরীর দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশ স্বাধীনের পর বিভিন্ন ক্লাবে খেলেছেন। খেলাধুলার ইতি টেনেছেন ১৯৮২ সালে।

বেশিরভাগ সময়েই হাতেম আলীর পাশে থাকেন স্ত্রী মমতাজ বেগম। তিনি জানান, ডিম বিক্রি করে প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৫০ টাকা আয় হয়। পান বয়স্ক ভাতার কিছু টাকা। সেই টাকাতেই সংসার চলে। আগে খেলোয়াড় ভাতা পেলেও দুর্ভাগ্যক্রমে সেটা বন্ধ হয়ে গেছে।

নিজেকে একজন মুক্তিযো'দ্ধা বলে দাবি করেন হাতেম আলী। জানান, মুক্তি সংগ্রামের যু'দ্ধে ব'ঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন পাক হানাদারদের বিরু'দ্ধে। রাজশাহী সংল'গ্ন ভারতের শেখপাড়া-কাহারপাড়া ক্যাম্পের অধীনে প্র'শিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযু'দ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সেই সময় অন্যরা মুক্তিযো'দ্ধা কার্ড নিলেও তিনি নেননি।

নগরীর হোসেনীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা হাতেম আলী। আট'বার বসেছেন বিয়ের পিড়িতে। বহু বিয়ের কারণ হিসেবে তিনি জানান, চারজন মানসিক রোগী, নি'র্যাতিতা ও দুস্থ নারীদের বিয়ে করে তাদের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। ৮ স্ত্রীর সংসারে রয়েছে ১২ ছেলে ও ৯ মেয়ে।

সন্তানদের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারা আলাদা হয়ে গেছে। তাদের উপার্জন আমি খেতে চাই না। আমি সৎপথে, হালাল উপার্জন করে খেতে চাই। এখন আমা'র পাঁচজনের সংসার। কারো সাহায্য ছাড়াই চালিয়ে যাচ্ছি।’

সেই সময় মুক্তিযো'দ্ধার কার্ড না নিলেও এখন আ'ক্ষেপ প্রকাশ করেন হাতেম আলী। মুক্তিযো'দ্ধার স্বীকৃতি ও খেলোয়াড় ভাতা পুনরায় চালুর জন্য মুক্তিযো'দ্ধাপ্রেমী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

খবরটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্পোর্টস গসিপ.কম
Theme Customized By Sports Gossip
error: Content is protected !!