1. bappy.ador@yahoo.com : admin :
  2. hostctg@gmail.com : Sports Editor : Sports Editor
  3. Onlynayeemkhanbd@gmail.com : Admin admin : Admin admin
  4. afnafrahel@gmail.com : afnafrahel@gmail.com Sports : afnafrahel@gmail.com Sports
সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন

টিকে থাকতে ভিন্ন পথে রাহী

  • সময় বৃহস্পতিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৪৮ পঠিত

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের টেস্ট ফরম্যাটের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে রয়েছেন দুইজন পেসার; আবু জায়েদ রাহী ও এবাদত হোসেন। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে একমাত্র পেসার হিসেবে খেলানো হয়েছে কেন্দ্রীয় চুক্তিতে না থাকা বাঁ-হাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে। এমন নয় যে ভালো করতে পারেননি, প্রথম ইনিংসে নতুন বল হাতে জোড়া উইকেট এনে দিয়েছিলেন তিনি। তবু তাকে বাদ দেয়া হয়েছে ঢাকায় দ্বিতীয় টেস্ট থেকে।

আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় টেস্টের দলেও রাখা হয়েছে একজন মাত্র পেসার, মোস্তাফিজের জায়গায় এসেছেন ডানহাতি পেসার আবু জায়েদ রাহী এবং ম্যাচের প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের সেরা বোলারও তিনি। সারাদিনে ভিন্ন ভিন্ন ৫টি স্পেলে ১৮ ওভার বোলিং করে মাত্র ৪৬ রান খরচায় নিয়েছেন ২টি উইকেট। প্রথম'দিনে ক্যারিবীয়দের ২২৩ রানে আট'কে রাখার অন্যতম কারিগর ডানহাতি এ পেসার।

টস হেরে ফিল্ডিংয়ে নেমে রাহীর হাতেই নতুন বল তুলে দেন টাইগার অধিনায়ক মুমিনুল হক। শুরুর কয়েক ওভার এলোমেলো বোলিং করেন তিনি। প্রথম ওভারের প্রথম বলে ২ ও চতুর্থ বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে রাহীকে চাপে ফেলার চেষ্টা করেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক ও ওপেনার ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট। প্রথম সেশনে খানিক টেনে শর্ট লেন্থে বোলিং করছিলেন রাহী। যার ফলে আসেনি সাফল্য।

নতুন বলে ছয় ওভারের স্পেল করিয়ে তাকে আ'ক্রমণ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। পরে মধ্যাহ্ন বিরতির আগে দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে এক ওভার করেন রাহী। দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেও তাকেই আ'ক্রমণে রাখেন মুমিনুল। এবার সামনের দিকে বল ফেলতে থাকেন তিনি, ব্যাটসম্যানকে প্রলুব্ধ করেন ড্রাইভ খেলতে। এতে থেমে আসে রানের চাকা। যার সুফল পেতে সময় লাগেনি।

রানের গতি বাড়াতে গিয়ে রাহীর করা অফস্ট্যাম্পের অনেক বাইরের ডেলিভারিতে ড্রাইভ খেলতে চান শেন মোজলি। ব্যাটের নিচের দিকে লেগে বল চলে যায় স্ট্যাম্পে, বোল্ড হয়ে সাজঘরের পথ ধরতে হয় ৩৮ বলে ৭ রান করা মোজলিকে। এই স্পেলে ৫ ওভার বোলিং করে মাত্র ৫ রান খরচ করেন নিয়ন্ত্রিত বোলিং করা রাহী, নেন মোজলির উইকেটটি।

৪৮তম ওভারে তৃতীয় স্পেলে আসেন রাহী। এবার প্রথম ওভারেই আসে সাফল্য। দ্বিতীয় সেশনের শুরু থেকে রানের জন্য হাঁসফাঁ'শ করতে থাকা আগের ম্যাচের নায়ক কাইল মায়ারস রাহীর করা অফস্ট্যাম্পের বাইরের বল পেয়েই করে বসেন ভুল, আগ্রাসী ড্রাইভ খেলতে গিয়ে ধ’রা পড়েন ওয়াইড স্লিপে দাঁড়ানো সৌম্য সরকারের হাতে। মাত্র ৫ রানেই মায়ারসকে ফিরিয়ে টাইগার শিবিরে আনন্দ ছড়ান ২৭ বছর বয়সী রাহী।

সেই স্পেলে ৪ ওভার করিয়ে থামানো হয় রাহীকে। পরে নতুন বল অর্থাৎ ৮০ ওভারের আশপাশে গিয়ে দুই স্পেলে করানো হয় আরও ৩ ওভার। নতুন বলে খুব একটা কার্যকরিতা না দেখালেও, রানের গতি বাড়তে দেননি রাহী। সবমিলিয়ে পাঁচ স্পেলে ১৮ ওভার বোলিং করে তার ফিগার দাঁড়ায় ১৮-৫-৪৬-২; যা দিনে বাংলাদেশের পক্ষে সেরা বোলিং।

দিনের খেলা শেষে রাহী জানিয়েছেন, নিজের এমন নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের রহস্য। সাধারণত ঘণ্টায় গড়ে ১২৮ থেকে ১৩০ কিমি গতিতে বোলিং করে থাকেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকে'টে এমন গড়পড়তা মানের গতি দিয়ে টিকে থাকা সম্ভব নয় তা জানেন তিনি নিজেও। মূলতঃ এ কারণেই গতির ঝড়ে উড়িয়ে দেয়ার চেয়ে লাইন-লেন্থ নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট চালিয়ে নেয়ার দিকেই মনোযোগী হয়েছেন সিলেটের এই পেসার।

তার ভাষ্য, ‘আমি যে পেস বোলিং করি, আমা'র গতি একটু কম। আমাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকে'টে টিকে থাকতে হলে লেংথ এবং লাইন মাথায় রাখতে হয়। আমি যখন বোলিং করি, তখন আমা'র মাথায় থাকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভালো করতে হলে, আমাকে লেংথ এবং লাইন ঠিক রেখে বোলিং করতে হবে। এছাড়া আমা'র কাছে কোনো দ্বিতীয় পথ খোলা নেই। আমি এটা মাথার মধ্যে রেখেই বোলিং করি।’

ঘরের মাঠে টেস্ট ক্রিকে'টে পেস বোলাররা বাংলাদেশের দলের জন্য অনেকটা সৎ ভাইয়ের মতো। কেননা প্রায় নিয়মিতই ঘরের মাঠে তিন-চার স্পিনারের স'ঙ্গে মাত্র এক পেসার নিয়ে খেলতে নামে বাংলাদেশ। আর এই একমাত্র পেসার হিসেবে জায়গা করে নেয়ার চ্যালেঞ্জে নামতে হয় অন্তত চার-পাঁচজন পেসারকে। এটা মাথায় রেখেই নিজেকে টেস্টের জন্য প্রস্তুত করেন রাহী।

তবু এতজন স্পিনারের ভিড়ে একদিনেই ১৮ ওভার বোলিং করার সুযোগ পাবেন অথবা বোলিং করতে হবে- তা ভাবেননি রাহী। এ কথা স্বীকার করে নিয়ে তার ভাষ্য, ‘সত্যি বলতে আমা'র কোনো পরিকল্পনা ছিল না যে, ১৮ ওভার বোলিং করব। ১৫ ওভার বোলিং করব আমি ধরে রেখেছিলাম। তবে আ মর'া পেশাদার ক্রিকেটার, আমা'দের এসব চ্যালেঞ্জ নিয়েই থাকতে হবে।’

রাহির এই কাজে সাহায্য করেছেন দলের ফিল্ডাররা। বলের শাইন (উজ্জ্বলতা) ধরে রাখার মাধ্যমে সুইং বোলিংয়ের জন্য প্রস্তুত করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হকরা। এছাড়া স্পিনাররাও ঠিক জায়গায় বোলিং করায় সহজ হয়েছে রাহীর কাজ, ‘আমি ধন্যবাদ জানাবো (মুমিনুল হক) সৌরভ ভাই, শান্তকে। কারণ ওরা বলটা খুব ভালোভাবে প্রস্তুত করেছে। এছাড়া আমা'দের স্পিনারদের বলগু'লো খুব কমই পড়েছে উজ্জ্বল অংশে। আমা'র কাছে মনে হয়, উনারা খুব ভালো মেইনটেইন করেছে বল।’

নিজের প্রথম দিকের অনিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের বি'ষয়েও কথা বলেছেন রাহী। মূলতঃ দীর্ঘদিন পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফেরায় এমনটা হয়েছে বলে ধারণা তার, ‘আমা'র ক্ষেত্রে যদি বলেন, অনেকদিন পরে ক্রিকেট শুরু হয়েছে। নিজেকে একটু নতুন নতুন মনে হচ্ছিল। কারণ প্রায় এক বছর পর আবার টেস্ট খেলছিলাম। তবে খুব দ্রুত নিজেকে মানিয়ে নিতে পেরেছিলাম এটাই ভালো জিনিস।’

প্রথম'দিনের উইকে'টে নিজেদের চাওয়া মোতাবেক পুরোপুরি পায়নি বাংলাদেশ। এ পিচে টার্ন আসতে আরও সময় লাগবে বলে মনে করেন রাহি, ‘(উইকেট) যে রকম আশা করেছিলাম, ওরকম ছিল না। উইকেট এখনও ফ্ল্যাট আছে। আমা'র কাছে মনে হয়, আ মর'া যেরকম আশা করেছিলাম উইকেট ওমন না। উইকেটটা আরও ফ্ল্যাট এবং আরও সময় লাগবে টার্ন এবং আ মর'া যেটা আশা করছি সেটা পেতে।’

খবরটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্পোর্টস গসিপ.কম
Theme Customized By Sports Gossip
error: Content is protected !!